আলো ডেস্ক: ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘জিয়া সরণি খাল’ পুনরুদ্ধার ও পানিপ্রবাহ সচল করার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার খালের বর্তমান অবস্থা ও পরিষ্কার কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। পরিদর্শনকালে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও জনভোগান্তি দূর করতে আমরা এই খালটি চলাচলের উপযোগী ও পানিপ্রবাহ সচল করার কাজ শুরু করেছি। বর্তমানে পানিপ্রবাহের দিক পরিবর্তন করে বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুততম সময়ে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয়। এই প্রকৌশলগত পরিবর্তনের ফলে নিষ্কাশন পথ কমে আসবে এবং এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে দূর হবে। তিনি আরও জানান, ডিএসসিসির নিজস্ব অর্থে বর্তমানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও প্রাথমিক পরিষ্কার কার্যক্রম চলছে। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ডিএসসিসির সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই খালকে পুনরুদ্ধারে ডিএসসিসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই খাল বুড়িগঙ্গার সঙ্গে সংযুক্ত করতে এরই মধ্যে ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জুলাই থেকে স্থায়ী গাইডওয়াল নির্মাণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং দুই পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের কাজ শুরু হবে। অন্যটি ‘শ্যামপুর খাল প্রকল্প’। প্রশাসক আব্দুস সালামের দায়িত্ব গ্রহণের পর ৯০০ কোটি টাকার শ্যামপুর খাল উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে। এখানে আধুনিক নেটিং ব্যবস্থা ও হাঁটার রাস্তা তৈরি করা হবে। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় জনস্বার্থ রক্ষায় ডিএসসিসি কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিগত সরকার কেবল জিয়া নামের কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ এই খালকে অবহেলা করেছিল, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। খাল পরিচ্ছন্ন রাখতে স্থানীয় নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ময়লা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ড্রামে ফেলুন। আমরা প্রতিটি ব্লকে সচেতন নাগরিক কমিটি গঠন করবো, যারা ডিএসসিসি প্রশাসকের সঙ্গে সমন্বয় করে খালের রক্ষণাবেক্ষণ মনিটর করবেন।
