স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশে ভেজাল মদ পান করে অনেকে মিথানল বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেকটা চিকিৎসাহীনভাবে অনেকে মৃত্যুবরণ কিংবা পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। কিন্তু লোকলজ্জা, সামাজিক ও আইনি বিধিনিষেধের বেড়াজালে মিথানল বিষক্রিয়ায় আক্রান্তদের সঠিক চিত্র পাওয়া যায় না। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা দেওয়া গেলে মিথানল বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত অনেকে সুস্থ জীবন পেতেন। সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে অনেকের মৃত্যু ঘটছে।
শনিবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশে মিথানল বিষক্রিয়া প্রশমন: সামাজিক মাত্রা, চিকিৎসাগত প্রতিক্রিয়া এবং পরিচর্যা উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালায় টক্সিওলোজি সোসাইটি বাংলাদেশের সহযোগিতায় ‘মিথানল বিষক্রিয়া ও অ্যালকোহল সম্পর্কিত বিষক্রিয়া মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক আয়োজিত কর্মশালায় এসব তথ্য ওঠে আসে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অধীনে এবং মিথানল ও অ্যালকোহল বিষক্রিয়ার ওপর চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও কুষ্টিয়া মেডিকেলে ভর্তি হওয়া রোগীদের ওপর একটা গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩৫ জন রোগীকে নিয়ে এই গবেষণার কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি বলে কর্মশালায় তথ্য উঠে আসে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ বলেন, পুরো জনগোষ্ঠীর তুলনায় মিথানল বিষক্রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কম হলেও আমাদের মদ্যপানের সঠিক সকনংক্যা জানা দরকার। হার অতি নগণ্য। এর মধ্যে মিথানল বিষক্রিয়া বা ভেজাল মদ পানজনিত বিষক্রিয়া আরও কম। তার পরও এই বিষক্রিয়ার সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি জানা দরকার। প্রান্তিক পর্যায়ে বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে এই বিষক্রিয়ার ব্যবস্থাপনা সবসময় সম্ভব নয়।নানা কারণে এই ধরনের রোগীরা সামনে আসতে চায় না। এছাড়া যারা মদে ভেজাল করছে তারাও ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশেষ করে পর্যটন এলাকা কিংবা যেসব জায়গায় প্রচলিত মদের অপ্রতুলতা রয়েছে সেখানে এই ভেজাল কার্যক্রম চলে। আক্রান্তরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।
মিথানল বিষক্রিয়ার ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফজলে রাব্বি চৌধুরী। এ বিষয়ে মতামত দেন , রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডাক্তার ফয়সল আলম, মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার আবু শাহীন ।সেমিনারে পেপার উপস্থাপন করেন ডাক্তার ফজলে রাব্বি চৌধুরী, মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, মিস আলিফা আহমেদ। রজশাহী মেডিকেল করেজের অধ্যক্ষ চৎড়ভ উৎ. কযধহফশবৎ গফ. ঋধরংধষ অষধস এবং পরিচালক ইজওএ এঊঘ চ ক গ গধংঁফ ঁষ ওংষধস এবং উপাধ্যক্ষ চৎড়ভ. উৎ. গফ তধযরৎঁষ ঐধয়ঁব এর উপস্তথিতিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহীর অরিক্ত জেলা প্রশাসক (রেভিনিউ)মহিনুল হাসান, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন, সহকারী পরিচালক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রাজশাহী মেহেদী হাসানসহ, ৩ জেলার টঐঋচঙ এবং চিকিৎসক গবেষকবৃন্দ।
