গোদাগাড়ী প্রতিনিধি
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় ফসলি জমিতে রাতের আঁধারে মুরগির বিষ্ঠা (মল) ফেলে পরিবেশ দূষণের দায়ে নাবিল গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান নাবা পোল্ট্রি ফার্মকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার রাতে উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের ঝিকড়াপাড়া-উলিপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনের অগোচরে রাতের অন্ধকারে আশপাশের ফসলি জমিতে মুরগির বিষ্ঠা ফেলে আসছিল। এর ফলে এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং মশা, মাছি ও বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যায়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর নাবা পোল্ট্রি ফার্মের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আদালত তাদের মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদ-ের আদেশ দেওয়া হয়। তবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করায় কারাদ- কার্যকর হয়নি।
অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটিকে ভবিষ্যতে পরিবেশ দূষণকারী কোনো কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেন। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন মেনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান বলেন, “পরিবেশের ক্ষতি করে এবং জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ছাড় পাবে না। পরিবেশ রক্ষায় জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।”
এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন, প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপের ফলে পরিবেশ দূষণ বন্ধ হবে এবং এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি পরিবেশবিধি লঙ্ঘনকারী অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এ অভিযান একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
গোদাগাড়ীতে পরিবেশ
