গোদাগাড়ী প্রতিনিধি
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৭ নম্বর দেওপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও কাদায় চলাচলের অনুপযোগী রাস্তা নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কার করে স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. গোলাম মর্তুজা (দুলাল)।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে দুর্ভোগের কারণ হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ও কাদায় এসব রাস্তা দিয়ে পথচারী, শিক্ষার্থী, মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন সরকারি সংস্কার কার্যক্রম না থাকায় অনেক রাস্তার অবস্থা আরও নাজুক হয়েছে বলে জানান তারা।
এ অবস্থায় এলাকাবাসীর অনুরোধে সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে নিজের অর্থায়নে বিভিন্ন এলাকার কাঁচা ও কাদাযুক্ত রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী গোলাম মর্তুজা (দুলাল)। এরই অংশ হিসেবে পুরেখালী মোড় থেকে স্থানীয় মসজিদ পর্যন্ত দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে।
এছাড়া বিজয়নগর কলোনি, জুগিডাৎ কলোনি, পালপুর, ধরমপুরসহ দেওপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাতেও কাদায় চলাচলের অনুপযোগী রাস্তা মেরামত ও সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক দশক আগে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পুরেখালী মোড় থেকে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করা হয়েছিল। এরপর নিয়মিত সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা এলেই রাস্তাটিতে কাদা-পানি জমে যায়। এতে মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লি, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
রাস্তা সংস্কারের ফলে বর্তমানে স্থানীয়দের চলাচলে স্বস্তি ফিরেছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে বর্ষার সময়ে মসজিদে যাতায়াত এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচল আগের তুলনায় সহজ হয়েছে বলে তারা জানান।
স্থানীয়দের আরও দাবি, গোলাম মর্তুজা (দুলাল) দীর্ঘদিন ধরে দেওপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা-ঘাট সংস্কার, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সহযোগিতা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজে সহায়তাসহ নানা জনকল্যাণমূলক কর্মকা-ে যুক্ত রয়েছেন। তাদের ভাষ্য, এলাকার মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে তাকে পাশে পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. গোলাম মর্তুজা (দুলাল) বলেন, “আমি সব সময় মানুষের পাশে থাকতে চাই। সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে যেখানে যতটুকু সম্ভব, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। পুরেখালী মোড় থেকে মসজিদের রাস্তাটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। এলাকাবাসীর অনুরোধে বর্ষার আগে এটি সংস্কার করেছি, যাতে মানুষ নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, দেওপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় যেসব রাস্তা বর্ষায় কাদায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, সাধ্যমতো সেসব রাস্তা সংস্কারে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছেন তিনি। ভবিষ্যতেও ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনসেবামূলক কর্মকা-ে নিজেকে নিয়োজিত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয়দের কেউ কেউ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে গোলাম মর্তুজা (দুলাল)-কে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে তার কর্মকা-কে রাজনৈতিকভাবে মূল্যায়ন না করে স্থানীয় উন্নয়ন ও জনসেবার ধারাবাহিকতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন অনেকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাময়িকভাবে সংস্কারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে এসব রাস্তার স্থায়ী উন্নয়ন করা হবে। এতে বর্ষা মৌসুমে মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ পুরোপুরি দূর হবে এবং ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।
