আলো ডেস্ক: ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীতে চলাচলের জন্য নয় হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের নামে নিবন্ধন দেওয়ারসহ নয় দফা দাবি জানিয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। সংগঠনের আহ্বায়ক মুহা. শাহআলম গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালে ‘সিএনজি/পেট্রোলচালিত ফোরস্ট্রোক থ্রি-হুইলার সার্ভিস’ নীতিমালার ক (২) অনুচ্ছেদের আওতায় ঢাকা মহানগরীতে পাঁচ হাজার ও চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকার চার হাজার সিএনজিচালিত থ্রি-হুইলার নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার।
এখনও তা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “দীর্ঘ প্রায় নয় বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও হয়ত কোনো অদৃশ্য মাফিয়া চক্রের স্বার্থে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা থেকে কর্তৃপক্ষ দূরে সরে আছে।
শাহআলম দাবি করেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী পেশাদার চালকরাই এসব অটোরিকশা বরাদ্দ ও নিবন্ধন পাওয়ার অধিকারী। মোট নয় দফা দাবিতে আগামী ১৭ জানুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন এবং ২৪ জানুয়ারী চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।
নয় দফা দাবি
১. ঢাকা নগরীতে পাঁচ হাজার ও চট্টগ্রাম নগরীতে চার হাজার সিএনজিচালিত থ্রি-হুইলার অটোরিকশা পেশাদার চালকদের নামে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. সিএনজি/পেট্রোলচালিত ফোরস্ট্রোক থ্রি-হুইলার সার্ভিস নীতিমালা লঙ্ঘন করে ‘প্রাইভেট অটোরিকশায়’ ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন এবং জেলার নিবন্ধিত অটোরিকশা মহানগরী এলাকায় চলাচল বন্ধ করতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ ও জনজীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সিএনজি অটোরিকশা অপসারণ করতে হবে।
৩. ২০১৫ সালের পর সিএনজির দাম সরকার চার বার বৃদ্ধি করলেও যাত্রীভাড়া সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে ‘মিটার ক্যালিব্রেশন’ করা হয়নি। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়ার হার মিটারে প্রথম ২ কিলোমিটারে ৮০ টাকা, পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারে ৩০ টাকা এবং ওয়েটিং-চার্জ প্রতি মিনিটে ৪ টাকা করতে হবে।
৪. সিএনজিচালিত অটোরিকশার ‘দরিদ্র’ চালকদের ক্ষেত্রে যে কোনো মামলায় আর্থিক জরিমানা ৫০০ টাকার বেশি করা যাবে না।
৫. সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী যে কোনো শ্রেণির মোটরযানের সংখ্যা বা সীমা নির্ধারণ করে রেজিস্ট্রেশন দিতে হবে, বিআরটিএর ‘খেয়ালখুশিমত’ মোটরযানের অপরিকল্পিত ও আত্মঘাতী রেজিস্ট্রেশন দেওয়া বন্ধ করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য মোটর সাইকেল ‘দায়ী’, সুতরাং এসব বাহনের রেজিস্ট্রেশন দেওয়া বন্ধ এবং চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
৬. বিদ্যমান সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী ‘আর্থিক সহায়তা তহবিল’ থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অটোরিকশা চালকের উত্তরাধিকারীকে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ, আহত চালকের চিকিৎসার খরচ দিতে হবে।
৭. অটোরিকশা মালিকদেরকে নিজ নিজ অটোরিকশার চালকের ছবি যুক্তি করে পূর্ণবিবরণ সম্বলিত ‘প্রত্যয়নপত্র’ দিতে হবে।
৮. সরকারের জারি করা রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা অনুযায়ী অনুমোদনবিহীন গাড়ি, বিশেষ করে মোটর সাইকেলের বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধ এবং অনুমোদিত গাড়ির চালকদের জন্য ‘রাইড শেয়ারিং’ লেখা নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৯. ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকার অটোরিকশার মালিকের দৈনিক জমার হার বর্তমানে ৯০০ টাকা, কিন্তু অধিকাংশ মালিক গাড়ির জমা ১১০০ থেকে ১৪০০ টাকা পর্যন্ত দিতে বাধ্য করছে। মালিকদের এই অপরাধ কর্মকা- বন্ধে বিআরটিএ থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করে আদালত পরিচালনা করতে হবে।
অন্যদের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক চৌধুরী ও সদস্য সচিব মো. ফারুক হোসেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
