আলো ডেস্ক: তামাকবিরোধী একাধিক সংগঠন জানিয়েছে, নিম্ন ভিত্তিমূল্যের কারণে বাজারের ৭১ দশমিক ৩৮ শতাংশ দখল করে আছে নিম্নস্তরের সিগারেট। তবে নানা জটিলতায় সরকার এ খাত থেকে প্রয়োজনীয় কর সংগ্রহ করতে পারছে না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত ২০৪০ সালের তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নিম্নস্তরের সিগারেটের কর বাড়ানোসহ পাঁচটি সুপারিশও জানিয়েছে এসব সংগঠন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণে কর বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা, বর্তমান অবস্থা ও করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট ও দি ইউনিয়ন যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা মিঠুন বৈদ্য বলেন, দেশের ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক সিগারেট, বিড়ি ইত্যাদি তামাকজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করে।
অন্যদিকে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ নারী ও ১৬ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করে। নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম- বাজারে এই ৪ ধরনের তামাকপণ্য থাকলেও নিম্নস্তরের সিগারেটে কার্যকরভাবে কর বাড়ানো হয় না। তিনি বলেন, সিগারেটের ওপর ১০ শতাংশ কর বাড়ানোর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ৪ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত তামাক ব্যবহারকারী কমেছে।
২০০৯ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ৯ শতাংশ তামাক ব্যবহারকারী কমেছে। তার মতে, দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিপরীতে তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়মূল্য ২৫ শতাংশেরও কম, যা খুবই আশঙ্কাজনক। তামাকজাত পণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যের বিপরীতে বাংলাদেশে মূল্য মাত্র ২০ শতাংশ, যা বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য খুবই সহজলভ্য।
বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কার্যকরভাবে নিম্নস্তরের সিগারেটের ওপর করারোপ করা হয় না। বিভিন্ন ছল-চাতুরি করে সিগারেট কোম্পানিগুলো নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য কমিয়ে রাখে ও তরুণদের হাতে তামাকজাত পণ্য তুলে দেয়।
ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পেয়ারী বলেন, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এই দ্রব্য বছরের পর বছর মানুষের হাতের নাগালে রাখা হয় কোম্পানির অধিক লাভের স্বার্থেই। বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর আইন অনুসারে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সুনির্দিষ্ট কর আরোপ ও কর আদায় পদ্ধতিটি আধুনিকায়নের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।
এসময় ভাইটাল স্ট্যাটিক্স’র কান্ট্রি ম্যানেজার নাসির উদ্দিন শেখ বলেন, ২০১৫ সালে সরকার বিড়ি, সিগারেটসহ সকল প্রকার তামাকের ওপর ১ শতাংশ হারে স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ধার্য করে।
কিন্তু ৬ বছর অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও সেই অর্থ আদায় ও তার সঠিক ব্যবহার করা যাচ্ছে না। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হাসিব প্রমুখ।
