আলো ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অধিকাংশ ভোটার ইভিএমে স্বল্প সময়ে স্বস্তিতে ভোট দেওয়ার ‘উচ্ছ্বাস’ প্রকাশ করলেও কিছু বয়স্ক ভোটার ‘বিপত্তির’ কথাও বলেছেন। ২০১১ সালের নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ হলেও গতকাল রোববার সকালে সিটির ২৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রের এক হাজার ৩৩৩টি বুথে এবারই প্রথম একযোগে ইভিএমে ভোট হচ্ছে।
সকালে নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের দেওভোগের শিশুবাগ বিদ্যালয়, মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রসহ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে ভোটারদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেল।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী শিশুবাগ বিদ্যালয়ে ইভিএমে ভোট দিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলীতে একটি কেন্দ্রে ইভিএম নষ্ট হওয়ার খবরও তিনি পেয়েছেন।
সকালে নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে স্বতন্ত্র মেয়র পদপ্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কোথাও কোথাও ভোটারের উপস্থিতি কম দেখে গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন, ‘ইভিএম-ভীতির কারণে’ হয়ত মানুষ কম। তবে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, ইভিএম নিয়ে কেউ অভিযোগ করেননি।
অনেকের বুঝতে অসুবিধা হলে তাদের প্রশ্ন করছেন, তার সমাধানও হয়েছে। ভোট ‘স্বাভাবিকভাবে’ হচ্ছে। শিশুবাগ বিদ্যালয় কেন্দ্রের নির্বাচনী কর্মকর্তারা জানান, এ কেন্দ্রের দুটি নারী বুথে সকাল সোয়া ৯টা পর্যন্ত যথাক্রমে ১৫টি ও ২৫টি ভোট পড়েছে। নারীদের এক নম্বর বুথে সকাল পৌনে ১০টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ২১টি।
বুথের দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রিজাইডিং মোহাম্মদ বাদশা বলেন, ভোটাররা ভোট দিতে গিয়ে অনেক সময় নিয়ে নিচ্ছেন। আমরা বাইরে থেকে বলে দেওয়ার পরেও তারা বুঝতে পারছেন না। আবার অনেকে আছেন এক মিনিটের মধ্যে ভোট কাস্ট করে চলে যাচ্ছেন। কেন্দ্রের এক নম্বর বুথে ভোট দিতে এসেছিলেন প্রতিমা রানী।
তিনি দুই দফায় চেষ্টা করেও ভোট দিতে পারেননি। কারণ তার আঙ্গুলের ছাপ মিলছিল না। এই প্রক্রিয়ায় কেটে যায় ১০ মিনিট। পরে নির্বাচন কমিশনের অপারেটর এসে প্রতিমা রানীর ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সকালে ভোট শুরুর পর এই কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে নিজের পছন্দের মার্কা খুঁজে পাচ্ছিলেন না এক নারী।
পরে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিজে কালো কাপড়ে ঘেরা ঘরে ঢুকে তাকে মার্কা খুঁজে পেতে সহযোগিতা করেন। অবশ্য অধিকাংশ ভোটারকে দেখা গেছে স্বচ্ছন্দে ইভিএমে ভোট দিয়ে বেরিয়ে যেতে। বুথের দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা রিয়াদুল ইসলাম বলেন, আঙ্গুলের ছাপ না মিললে শতকরা এক শতাংশ ভোটারের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থায় ভোট গ্রহণের নিয়ম আছে। কিন্তু আমার বুথে অধিকাংশই বয়স্ক ভোটার। অনেকরই আঙ্গুলের ছাপ মিলছে না।
এ কারণে ভোটগ্রহণে অনেক বিলম্ব হচ্ছে। এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আবু খালেদ মোহাম্মদ রায়হান বলেন, “সকাল ১১টা পর্যন্ত ১৯০টি ভোট দেওয়া হয়েছে। এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ২০১৯ জন। আমার কেন্দ্রে যেভাবে ভোট পড়ছে তাতে আমি সন্তুষ্ট। কেউ যদি নিজে মার্কা পছন্দ করে ভোট দিতে না পারেন তাহলে নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত অন্য কারো সহযোগিতা নেওয়ার সুযোগ নেই।
এ ক্ষেত্রে তিনি হয়ত আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতা নিতে পারেন, বলেন রায়হান। শিশুবাগ বিদালয় কেন্দ্রে নিজের ভোট দিয়ে উচ্ছ্বসিত লিয়াকত হোসেন বলেন, “ইভিএমে আগেও ভোট দিয়েছি, এবারও দিলাম। ভোট দিয়ে খুবই ভাল লাগল। শান্ত পরিবেশে ভোট হচ্ছে। জোৎস্না আরা বেগম নামে আরেকজন বলেন, “সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পরিবেশে ভোট হয়েছে।
ভোট দিয়ে ভালই লাগছে। কেন্দ্রের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আল-আমিন বেলা সাড়ে ৯টার দিকে বলেন, আমাদের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সমন্বিত তিনটি টিম নির্বাচনী এলাকায় টহলে রয়েছেন। কোথাও কোনো ধরনের গোলযোগ, ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়নি। ইভিএমে ভোটও স্মুথলি হচ্ছে। সকালের তুলনায় ভোটার উপস্থিতিও বেড়েছে।
ইভিএমে ভোট দিতে বিলম্ব বা ইভিএম বিনষ্ট হয়েছে এমন অভিযোগও নিয়ন্ত্রণ কক্ষে আসেনি বলে জানান আল-আমিন। এই কর্মকর্তা বলেন, ইভিএম নিয়ে অনেক প্রার্থীর অভিযোগ নয়, বিশেষ করে বুঝতে অসুবিধা হয় বলে আমাদের কাছে প্রশ্ন রাখেন। নিয়ন্ত্রণ কক্ষে কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী ফোন করে ইভিএমের বিষয়ে কথা বলেছিলেন।
সঙ্গে সঙ্গে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলে তা সমাধান করা হয়েছে। আশা করি, কোথাও কোনো অসুবিধা হবে না; কেন্দ্রে কেন্দ্রে সাপোর্ট স্টাফও রয়েছেন। মেয়র পদে সাতজন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নারায়ণগঞ্জ সিটির তৃতীয় এই নির্বাচনে।
