রা জ শা হী র আ লোঃ – সাজ্জাদুল তুহিন, নওগাঁ
নওগাঁর মান্দায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সংস্কার ও মাটি ভরাট কাজের শুরুতেই ছয়-নয়ের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, আত্রাই নদীর তীরবর্তী উপজেলার পার-নুরুল্যাবাদ হতে জোকাহাট গামী দেড় কি.মি. রাস্তার জন্য ৯৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
কিন্তু বরাদ্দের তুলনায় ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তাটিতে সঠিকভাবে কাজ হচ্ছে না। মাটির পরিবর্তে বালি দিয়ে দায়সারা ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। প্রতিবছর আত্রাই নদীর পানির চাপে বাঁধটি ভেঙে যায়।
এতে করে উপজেলার নুরুল্যাবাদ ও বিষ্ণুপুর ইউপির প্রায় অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানির নিচে তলিয়ে যায়। পানি প্রবেশের ফলে কৃষকের ফসলাদি ও পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়েন।
যার ফলে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষেরা। জনদূর্ভোগ লাঘবের জন্য বাঁধটি সংস্কার ও মেরামতের জন্য ৯৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দে কাজ শুরু করেন। কিন্তু কাজের মান ভাল না হওয়ায়, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধটি আরো ঝুঁকিপূর্ণ থেকে যাচ্ছে।
বরাদ্দকৃত টাকার অর্ধেকেরও কম টাকা দিয়ে সাব- ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ শুরু করেছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কাজ দেখভালের জন্য নেই কোন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি। অধিক লাভের আশায়, বাঁধের গোড়া থেকে মাটি উত্তোলন করায়, বাঁধটি আরো দূর্বল হয়ে পড়ছে। এছাড়াও মাটি দিয়ে রাস্তাটি ভরাট করার কথা থাকলেও বালু দিয়ে ভরাট দিচ্ছেন । এতে বাঁধটি আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের দুই পাশ থেকে গভীর করে মাটি কেটে নিচ্ছেন ঠিকাদাররা । এতে করে বাঁধের গোড়া আরো দুর্বল হয়ে পড়ছে। একটু পানির চাপে ভেঙ্গে যাবে। বাঁধের গোড়ায় গভীর করে খনন ইতিবাচক বলে মনে করছেন না তারা।
এছাড়াও মাটি দিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও মাটির পরিবর্তে বালু ব্যবহার করছেন। যেন দেখার কেউ নেই। এমন দায়সারা কাজে জনদূর্ভোগ লাঘবের চেয়ে বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ ব্যাপারে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ: আবু বাক্কার সিদ্দিকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, রাস্তার কাজে অনিয়ম হলে খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মাহবুব আলম জানান, মাটির পরিবর্তে বালি দিয়ে কাজ করার অভিযোগে কাজ স্থগিত করা হয়েছে।তবে মাটির পরিবর্তে বালি ব্যবহার করার নিয়ম নেই।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফউজ্জামান খানের সাথে মোবাইল ফোনে কয়েক বার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি।
