রা জ শা হী র আ লোঃ – নাচোল প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে প্রধান মন্ত্রীর উপহার সরুপ ঘর তৈরী হচ্ছে নিম্ন মানের ইট বালু দিয়ে! এমন অভিযোগ করেছেন গৃহহীণ ঘর পাওয়া পরিবারবর্গ । তবে এর আংশিক সত্যতা স্বীকার করেছেন ঘর নির্মাণ কারী শ্রমিক/রাজমিত্রীরা।এছাড়া ঘর তৈরীর জন্য ইট বালি পরিবহন করা হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের দিয়ে। এই তাপদাহ রোদ্রে কোমলমতি শিশুদের ইট পরিবহনের চিত্র দেখলে তা একজন মানুষ হিসাবে শরীর শিউরে উঠার মত। সরকারি ঘর নির্মাণে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সরকারি টাকায় হওয়ার কথা,কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় নাচোল উপজেলায় ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য নতুন করে আরো ১৮৬টি ঘর বরাদ্দ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে ১৮৬টি ঘর নির্মাণ হচ্ছে ৪টি ইউনিয়নে ও ১টি পৌরসভা এলাকায়। নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি পেয়েছেন ৩ জন। উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ঘরগুলো নির্মিত হচ্ছে।
গৃহহীনরা ঘর বরাদ্দ পেয়ে খুশি হলেও এর টেকসই নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন তারা। ঘর নির্মাণে নিম্নমানের ইট, বালু ব্যবহার করায় তাদের মধ্যে এ আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এ অভিযোগ নাচোল উপজেলার মোহাম্মাদপুর মৌজার হাটরাজবাড়ী জিয়ানাপাড়ার শ্রী রতিকান্তের স্ত্রী সুরুজমনি (৫০) ও তার ছেলে শ্রী টুটুল খালকো (২৩), হাটরাজবাড়ী দিঘীপাড়া গ্রামের মৃত জেহের আলীর ছেলে আজিমুদ্দিন (৫০), নাজিমুদ্দিনের ছেলে সাইফুল (৩১)সহ আরো অনেকের।
তাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর উপহারস্বরূপ (আশ্রয়ণ প্রকল্প) গৃহহীন পরিবারের মধ্যে যে ঘরগুলো দেয়া হচ্ছে তা তৈরিতে নি¤œমানের ইট ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই সাথে সিমেন্টের পরিমাণও কম দেয়া হচ্ছে। সরেজমিন কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিকের কথা বলে পুরোটা স্বীকার না করলেও ‘কিছুটা সত্য’ বলে তারা নিশ্চিত করেছেন।
নাচোল পৌর এলাকার পন্ডিতপুর মৌজায় নির্মাণ হচ্ছে ১৬টি ঘর। এর মধ্যে সেলিমের স্ত্রী ববিতা (২৬), শাহজাহান আলীর ছেলে বুলবুল (৩৪) ও আব্দুল জলিলের স্ত্রী বিউটি (৩০) অভিযোগ করে জানান, ঘর পাওয়ার জন্য তাদেরকে লেবার খরচ হিসেবে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা গুনতে হয়েছে। তারা জানান, পন্ডিতপুর মেইন রাস্তা থেকে নির্মাণ সামগ্রী নিজ খরচে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর জন্যই তাদেরকে এ টাকা খরচ করতে হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তারা এ টাকা দিয়েছেন বলে জানান। তারা আরো জানান, যে বালু ভরাট কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, ওই বালু দিয়েই প্লাস্টারের কাজ করা হচ্ছে। গরিব হওয়ায় প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না বলেও জানান তারা।
তারা আরো জানান,ঘরে থাকার আশায় কোমলমতি শিশুদের দিয়ে ইট বালি পরিবহন করতে হচ্ছে আমাদের। ঘর নির্মাণ শ্রমিকদের ও খেতে দিতে হচ্ছে আমাদের।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত নেজামপুর ইউনিয়নের অবহেলিত এলাকা শ্যামপুর মৌজায় নির্মাণ করা হচ্ছে ৫০টি ঘর ও ১নং কসবা ইউনিয়নের কসবা হাটখোলা গ্রামে ২৩টি ঘর। সেখানেও একই অভিযোগ ঘর বরাদ্দ পাওয়া পরিবারগুলোর। প্রধানমন্ত্রীর উপহারস্বরূপ যে ঘরগুলো দেয়া হবে সেগুলো যদি ঝড়ে মাথার ওপর ভেঙে পড়ে তবে কুঁড়েঘরে থাকায় ভালো বলে মন্তব্য করেন তারা।
এ বিষয়ে কথা হয় ঠিকাদার নাচোল সদর ইউনিয়নের আন্ধরাইল গ্রামের মৃত মোশারফ হোসেনের ছেলে মো. আসাদুল ইসলাম টিপুর সাথে। তিনি বলেন, “আমি শুধুমাত্র মিস্ত্রি দিয়ে ওয়াল গাঁথা, প্লাস্টার করানো ও টিনের ছাউনির কাজ করি। ইট, বালু, সিমেন্ট, দরজা, জানালা, টিনসহ যাবতীয় মালামাল সরবরাহ করেন উপজেলা প্রশাসন। এর মধ্যে কোনো সামগ্রী যদি নিম্নমানের হয়ে থাকে তার দায়দায়িত্ব আমার নয়।” একই কথা বলেছেন আরো দুই ঠিকাদার সিংরইল গ্রামের আজিজুর রহমান ও অরুণ বাড়ি বেহুলা গ্রামের সেমাজুল ইসলাম।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আহম্মেদ এর সাথে মুঠোফোনে গতকাল রবিবার যেগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ ষিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক একেএম গালিভ খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,মন্ত্রী মহোদয় এসেছে একটু ব্যস্ত আছি,্ইউএনর সাথে কথা বলেন।বিষয়টি পরে দেখব।
