আলো ডেস্ক:রাজধানীর গাবতলীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকাডুবিতে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও দুইজন নিখোঁজ। তবে তুরাগ নদীতে তীব্র স্রোত ও আলোস্বল্পতার কারণে উদ্ধার অভিযান শনিবারের মতো স্থগিত করে ফায়ার সার্ভিস। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় গাবতলীর কয়লার ঘাটে এই তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক দিনমনি শর্মা। বিআইডব্লিউটিএ’র গাবতলী ল্যান্ডিং স্টেশনে কথা বলেন তিনি। দিনমনি শর্মা জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় নদী থেকে পাঁচটি লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। তাদের মধ্যে চার শিশু ও একজন নারী। তারা হলো- শিউলি আক্তার (২৭), রূপন (৪) ও আরমান (৩)। লাশ উদ্ধার হওয়া আরও দুই শিশুর পরিচয় জানা যায়নি। উদ্ধার চার শিশুর বয়স ছয় বছরের মধ্যে। অভিযানে সহায়তা করেছে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ। নৌকায় কতজন যাত্রী ছিল তা জানতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। দিনমনি শর্মা জানান, তারা সাতজন নিখোঁজের খবর পেয়েছেন। সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। চারটি বোট ও ডুবুরি দল এতে অংশ নিয়েছে। এগুলো ঘটনাস্থলে থাকবে। রোববার সকাল থেকে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হবে। ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালকের ধারণা, নদীর স্রোতের কারণে লাশ ভেসে দূরে চলে যেতে পারে। তাই জনগণের সহায়তা চেয়েছেন তারা। কোনও মৃতদেহ ভাসতে দেখলে তাদের জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। দিনমনি শর্মা জানিয়েছেন, নৌকাটিকে কোন বাল্কহেড ধাক্কা দিয়েছে তা এখনও শনাক্ত করা যায়নি। নৌ-পুলিশ এ ব্যাপারে কাজ করছে। একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় তলিয়ে যাওয়া নৌকাটি গতকাল শনিবার বিকাল ৩টার দিকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। ক্রেন দিয়ে এটি কয়লার ঘাটে নিয়ে আসা হয়। ডুবে যাওয়ার সময় নৌকার কয়েকজন যাত্রী সাঁতার দিয়ে তীরে আসতে পেরেছেন। নৌ-পুলিশের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার খন্দকার ফরিদুল ইসলাম জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হবে। মৃতদেহের ময়নাতদন্ত ও পরিচয় শনাক্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
