আলো ডেস্ক: রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন অচিরেই পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সঙ্গে ভারতের অন্যতম পর্যটন স্পট দার্জিলিংয়ের রেল সংযোগ স্থাপিত হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকার এ প্রকল্পটি এগিয়ে নিচ্ছে। গতকাল শনিবার ফেনী রেলওয়ে ষ্টেশনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রেলমন্ত্রী এ কথা বলেন। এজন্য জনগণের দোয়া চেয়েছেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, বলেন, ২০২২ সালের বিজয় দিবসের আগেই সারাদেশের সঙ্গে কক্সবাজারের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হবে। সেই লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ কাজ। তিনি বলেন, আগামীতে রেলওয়ের মিটার গেজ লাইন থাকবে না, শিগগিরই ঢাকা-চট্টগ্রামের পুরো রেলপথ ব্রডগেজ লাইন হয়ে যাবে। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার লাকসাম থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার ব্রডগেজ লাইনের উদ্বোধন হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ব্রডগেজ লাইন স্থাপনের ফলে, আগে যে ট্রেন ঘণ্টায় ৭০/৮০ কিলোমিটারে বেগে চলতো তা এখন চলবে ১২০ কিলোমিটারেরও বেশি বেগে। ফেনী-বিলোনিয়া রেল লাইনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এটি সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে। আশা করছি এ কাজটিও দ্রুততম সময়ে শুরু হবে। এ সময় মন্ত্রী ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের যাত্রী সুবিধা বৃদ্ধির জন্য প্লাটফর্ম উঁচুকরণ, স্টেশন বিল্ডিং রিনোভেশন, এক্সেস কন্ট্রোল এবং প্লাটফর্ম শেড নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শহীদ খোন্দকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রেলমন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আকতার মনি, ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্রশীল, ফেনী পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী।
কুমিল্লা-লাকসাম ডুয়েল গেজ রেললাইন উদ্বোধন: কুমিল্লা থেকে লাকসাম পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ রেললাইন উদ্বোধন করেছেন রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় তিনি কুমিল্লা রেলস্টেশনে এই ডুয়েল গেজ রেললাইন উদ্বোধন করেন। এ সময় কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসেম খান, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ডিএন মজুমদারসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্য দিয়ে ৩২১ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ২৭৩ কিলোমিটার দুই লাইনে উন্নীত হলো। আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত বাকি ৪৮ কিলোমিটার দুই লাইনে উন্নীতের কাজ চলমান রয়েছে, যা ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে চালুর লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা। প্রায় ৬ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথটি ডুয়েল গেজ ডাবল লাইনে উন্নীত করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লাকসাম-কুমিল্লা সেকশনে নির্মিত নতুন ভৌত অবকাঠামোর মাধ্যমে আপ এবং ডাউন উভয় দিকে নিরবচ্ছিন্ন ট্রেন চলাচলের সুবিধা পাওয়া যাবে। ফলে আগের মতো কোনো স্টেশনে ট্রেন থামিয়ে সময় ক্ষেপণকারী ‘ক্রসিং’ করার প্রয়োজন হবে না। এতে লাকসাম-কুমিল্লা সেকশনে প্রায় ১৫-২০ মিনিট সময় সাশ্রয় হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেলমন্ত্রী বলেন, রেলে যুক্ত হচ্ছে ১২৫ লাগেজভ্যান। এরমধ্যে ২৬ রেফ্রিজারেটর রয়েছে। যা দিয়ে কৃষিপণ্যসহ মাছ-মাংস ও দুধসহ পচনশীল পণ্য পরিবহন করা হবে। মন্ত্রী বলেন, রেল জনগণের সম্পদ। এটাকে দেখভালের দায়িত্ব আপনাদের।
এখনো আমাদের অনেকের প্রবণতা আছে টিকেট না করে ট্রেনে ভ্রমণ করার। এটা পরিত্যাগ করতে হবে। কারণ আপনি যে টাকা দিয়ে টিকেট নিচ্ছেন এটা জনগণের তহবিল জমা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ট্রেনে অনেক ঘটতি। যেটা সরকার জনগণের টাকায় ভর্তুকি দিয়ে পরিচালনা করছেন। মো. নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ৩২১ কিলোমিটারের মধ্যে ২৭৩ কিলোমিটার দুই লাইনে উন্নীত হলো। আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত বাকি ৪৮ কিলোমিটার দুই লাইনে উন্নীতের কাজ চলমান রয়েছে। যা ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে চালুর কথা জানিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।
