স ম্পা দ কী য়ঃ করোনাভাইরাস মহামারি একটু কমতেই রাজধানীসহ দেশজুড়ে ডায়রিয়ার প্রকোপ শুরু হয়েছে। এরমধ্যে রাজধানীর মহাখালীর আইসিডিডিআর, বিতে প্রতিদিন এক হাজার ৩০০’র বেশি ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছে। এছাড়াও প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলার হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়া রোগীতে পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ার খবর আসছে।
এক প্রতিবেদনে জানা যায়, আইসিডিডিআর, বি’র জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ডা. শোয়েব বিন ইসলাম জানিয়েছেন, বুধবার একদিনে ১৩ শ’ ৭০ জন ডায়রিয়া রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছেন তারা। রাজধানীর যাত্রাবাড়ি, শনির আখড়া, কদমতলি, গুলশান, বাড্ডা ছাড়াও গাজীপুর এবং বোর্ড বাজার এলাকা থেকেও আক্রান্তরা আসছেন। এ ছাড়া ঢাকার কাছের জেলা নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ এলাকা থেকেও অনেক রোগী আসছেন বলে খবরে উঠে আসছে। আইসিডিডিআর.বি’র হাসপাতালগুলোতে মিনিটে মিনিটে ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছে।
দেশের জেলা ও উপজেলা শহরেও ডায়রিয়ার প্রকোপ রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনেও ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডায়রিয়ার কারণে হিসেবে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবকে দায়ী করা হলেও গরমের সাথে সাথে মানুষ বাইরের খোলা খাবার বা বাসি পচা খাবার খেলেও ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়।
তবে রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় পানির সংকট রয়েছে। সেখানে স্যুয়ারেজ লাইনের সাথেই পানির লাইন রয়েছে। এমন পানি পান করলে পানিবাহিত সকল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ডায়রিয়ার জীবাণু সাধারণত অপরিচ্ছন্ন খাবার বা দূষিত পানি থেকে আসে। ডায়রিয়া এ সময়ে বেশি হয় পানির কারণেই।
গরমে পানি কমে যাওয়ার ফলে এ রোগের প্রকোপ বাড়ে।’ একথার সাথে একমত স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন: দূষিত পানির কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ ডায়রিয়া ও কলেরার প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সচেতন থাকার আহ্বানের সাথে আমরা একমত পোষণ করছি।
তবে পানি দূষিত থাকলে রাজধানীর অধিকাংশ মানুষেরই সচেতন থাকার উপায় থাকে না, এটাও বাস্তব সত্য। এজন্য ডায়রিয়ার প্রধান কারণ দূষিত পানি ঠিক করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। এ রোগের প্রকোপ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রতিরোধ এবং আক্রান্ত হলে সুকিচিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
