স ম্পা দ কী য়ঃ বিগত দু’বছর করোনা মহামারীর কারণে অনেকেই নিজ পরিবার পরিজনের সাথে ঈদ উদযাপন করতে দেশে যেতে পারেন নি। এবার করোনার প্রকোপ না থাকায় সবাই ঈদ করতে গ্রামমুখী। কিন্তু সড়ক পথে বলুন আর রেল পথেই বলুন, অথবা পানি পথ বা আকাশ পথ সব পথেই রয়েছে নানা বিড়ম্বনা। আকাশ পথে ভ্রমণের সক্ষমতা অনেকেরই নাই। যাদের আছে তারা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করেন। কিন্তু পানি পথে আর সড়ক পথে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাদাগাদি করে গন্তব্যে পৌঁছাবার চেষ্টা করেন। যানজট আর জানজটে নাকাল হয়ে ছ;ঘন্টার পথ পাড়ি দেন ১০/১২ ঘন্টায়। এতে ঝক্কিঝামেলার পরও মানুষ আপন জনের সাথে ঈদ উৎসব পালন করে আনন্দ পায় আর দুর্ভাগারা দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে জীবন হারায় বা পঙ্গুত্ব বরণ করেন। আমরা উৎসবে এমন বিয়োগান্তক পরিণতি দেখতে চাই না। তবে এবারের ঈদ যত্রাও যে ভোগান্তির হবে, তা না বললেও খুব সহজেই অনুমেয়।
দেশের চারটি প্রধান মহাসড়কের মধ্যে ঢাকা ময়মনসিংহ ও ঢাকা রংপুর মহাসড়কে যানজটের আশঙ্কা বেশি। ঢাক-চট্টগ্রাম ও ঢাক-সিলেট মহাসড়কেও যানজট তৈরী হয়। মূলত সড়ক স¤প্রসারণ ও নির্মাণ কাজের জন্য ঢাকা রংপুর ও ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজট লেগে থাকে। ঈদ যাত্রায় গাাড়ির সংখ্যা বাড়লে তা আরও প্রকট রূপ ধারণ করবে। ওদিকে ঢাক-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দি অংশে সংস্কারের কাজ চলছে। ঢাকা সিলেট মহাসড়কে যানবাহনের অবৈধ স্ট্যান্ড দূর্ভোগ সৃষ্টি করছে। আর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের বড় সমস্যা পদ্মা পাড়ি দেয়া।
এক নদী বিস ক্রোশের মতোই ঈদ যাত্রায় কখন পদ্মা পাড়ি দেয়া সম্ভব হবে, তা কারো জানা নেই। এদিকে শিমুলিয়া- বাংলাবাজার ঘাট দিয়ে ট্রাক ও বাস পারাপার বন্ধ। পাটুরিয়া – দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি ও ঘাট চাহিদার তুলনায় অল্প। এখনই ফেরি পারাপারে অসংখ্য বাস ও ট্রাক আটকে থাকছে।
ঈদ যাত্রায় কি পরিমাণ গাড়ি বাড়ে তা নির্ধারণের জন্য আমরা বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল প্লাজার দিকে নজর দিলে বুঝতে পারবো। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩ হাজার যানবাহন সেতু পার হয়।
ঈদ যাত্রায় তা ৩০ থেকে ৩২ হাজারে উন্নীত হয়। বাড়তি এ যান বাহনের চাপ সহ্য করা কঠিন। কিন্তু সারা দেশের মহাসড়কেই এমন ঘটছে। স্থানীয় ভাবে চলাচলকারী লোকাল বাস ঈদ যাত্রায় আন্তঃজেলা পরিবহন হয়ে যায়। ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব সময়ই কর্তা ব্যক্তিরা নানা কথার ফুলঝুড়ি ফোটান। এবারো তার ব্যতিক্রম নয়। সড়ক বিভাগ, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সংস্কার কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর গত ৯ এপ্রিল এক সভায় ২০ এপ্রিলের মধ্যে সব সড়ক চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বৈঠকে বলা হয়, যেখানে যেখানে মেরামত করা দরকার তা আগে করে ফেলতে হবে। এ নির্দেশ আগে দেওয়া হলেও নির্দিষ্ট সময়ে তা শেষ করা সম্ভব হয় নি বলে সময় ২০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তা হোক তবু মানুষের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন, নির্ঝঞ্ঝাট হোক। স্বস্থিতে মানুষ আপন জনের কাছে ফিরুক। ঈদ শেষে আবার কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসতে পারে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
