সাজ্জাদুল তুহিন, নওগাঁ
নওগাঁর মান্দায় মটগাড়ী আদর্শ কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ এর নামে একটি সংস্থার জমাকৃত টাকা ফেরত না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সুদ বাণিজ্য করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে মান্দা উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক ও মটগাড়ী আদর্শ কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে।
তিনি উপজেলার প্রসাদপুর ইউপির মটগাড়ী মন্ডল পাড়া গ্রামের মৃত বদের আলী মন্ডলের ছেলে। এই শ্রমিকদল নেতা সমিতির সদস্যদের আমানতের টাকা ফেরত না দিয়ে ক্ষমতার দাপটে দিনের পর দিন হয়রানি ও গড়িমশি করছেন সমিতির সাধারণ সদস্যদের সাথে। তার ক্ষমতার কাছে এখন জিম্মি হয়ে পড়েছে আমানতকারীরা। এতে করে আমানতের ৩ কোটি টাকা ফেরত না পেয়ে ওই সমিতির অধিকাংশ সদস্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় সমিতির সদস্যদের পক্ষে সাদেকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি গত সোমবার (১১ এপ্রিল) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সমিতির সভাপতি ও সুদ ব্যবসায়ী হামিদুর রহমান নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে ২০০৬ সালে সমিতি শুরু করেন। বর্তমানে সমিতির প্রায় ৩ কোটি টাকা সদস্যদের আমানত জমা হয়েছে। এ টাকা এখন ফেরত দিতে গড়িমসি শুরু করেছেন তিনি। সদস্যরা টাকা ফেরত চেয়ে দিনের-পর-দিন হয়হানি হচ্ছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সমিতির সভাপতি হামিদুর রহমান ২০০৬ সালে “মটগাড়ী কেয়ার ফসল” নামে একটি সমবায় সমিতি নামে কার্যক্রম শুরু করেন। পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে “মটগাড়ী দুগ্ধ উৎপাদন” সমবায় সমিতি লিঃ রাখা হয়। এরপর একই সদস্য দিয়ে ২০১৭ সালে পরিচালনা কমিটি ও সদস্যদের অনুমতি না নিয়ে নতুন নামকরণ করা হয় “মটগাড়ী আদর্শ কৃষি” সমবায় সমিতি লিঃ। দফায় দফায় নিয়মবহির্ভূতভাবে একই সদস্যদের দিয়ে নাম পরিবর্তন ও সমবায় দপ্তর থেকে রেজিস্ট্রেশন করে নেন সমিতির সভাপতি পদে থাকা হামিদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন। বর্তমানে সমিতির সদস্য সংখ্যা ৩২০ জন।
ওই সব সদস্যরা দিনের পর দিন ঘুরে বেড়াচ্ছেন আমানতের টাকা ফেরত পেতে।সমিতির সদস্য বিলকিস বানু, আমজাদ হোসেন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মকবুল হোসেনসহ আরও অনেকে জানান, আমানতের টাকা ফেরত দিতে দিনের পর দিন আমাদেরকে হয়রানি করছে সভাপতি হামিদুর রহমান। তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তালবাহানা শুরু করেছেন। তারা আরও জানান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে হামিদুর রহমান তার ইচ্ছামত আদরি বেগম নামে এক মহিলাকে ক্যাশিয়ার বানিয়ে নিজেই ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালনসহ সমিতি তার ইচ্ছে মতন পরিচালনা করে আসছেন।
সমিতির সদস্যদের জমাকৃত টাকা বিভিন্ন খাতে খাটিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সভাপতি হামিদুর রহমান।ইউপি সদস্য মকবুল হোসেন আরও জানান, সমিতি শুরু করার আগে হামিদুর রহমান ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বর্তমানে তিনি মঞ্জিলতলা বাজারে প্রায় ত্রিশ লাখ টাকা মূল্যের মার্কেট ক্রয় করেন, এছাড়াও কৃষিজমি ক্রয়সহ নামে-বেনামে প্রায় কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি।
মটগাড়ী আদর্শ সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি হামিদুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে ফোন কেটে দেন।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আখতার হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত করা হবে। তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আবু বাক্কার সিদ্দিক বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করার জন্য উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
