আলো ডেস্ক: অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় আদালতে আরও পাঁচজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মুন্সী আবদুল মজিদের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ হয়।
এ সময় প্রদীপ কুমার দাশ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এদিন আদালতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদা, চন্দিমা শীল, মাহমুদুল হাসান, জুলিয়ান সেতেরা ও বিআরটিএ’র মোটরযান শাখার পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন সাক্ষ্য দেন। আদালত আগামী ২৭ এপ্রিল সাক্ষীর জন্য পরবর্তীসময়ে দিন ধার্য রেখেছেন বলে জানা গেছে। মামলায় দুদককের আইনজীবী মাহমুদুল হক বলেন, গৃহায়ণ ও গণপূর্তের চার প্রকৌশলী ওসি প্রদীপের পাঁচলাইশ থানার ষোলশহরের সেমিপাকা ঘরগুলো পরিমাপের প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
বিআরটিএর কর্মকর্তা আদালতে দুটি গাড়ির প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এই পাঁচজন জনসহ প্রদীপের বিরুদ্ধে মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেছেন আদালত। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর তৎকালী সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে প্রায় চার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এর মধ্যে তিন কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকা ‘ওসি প্রদীপ’ ঘুস-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন ও আরও ১৩ লাখ ১৩ হাজার ১৭৫ টাকার সম্পদের তথ্য দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে গোপন করা হয় বলে ওই মামলা অভিযোগ করা হয়। তদন্ত শেষে গত বছরের ২৬ জুলাই মো. রিয়াজ উদ্দিন ওই মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
গত ১ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্রের ওপর শুনানি হয়। গত ২৯ জুন দুপুরে চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ ও মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত প্রদীপ কুমার দাশের অবৈধ সম্পদ দেখভালের দায়িত্ব কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে দেন। এর আগে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় চার্জ গঠন করে আদালত।
