আবু হেনা মোস্তফা জামান-
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়ার সেনবাগ গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম (৩৮) সিয়াম পরিবহন বাসে সুপারভাইজারের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। নাটোরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনি বাম হাত হারিয়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি দূর্ঘটনার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর বড় ছেলে রবিউল ইসলাম। ছোট ভাই হানিফ এখনো শিক্ষার্থী। রবিউলের পরিবারে স্ত্রী সাজেদা বেগম ছাড়াও রয়েছে আরিফ হোসেন (৫) ও আব্দুল বারী (৩) নামের ছোট দুটি সন্তান।
দূর্ঘনার পর রবিউল ইসলামকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার ফুপাতো ভাই নুরুল আমিন জানান, নাটোরে ন্যাশনাল পরিবহনের সঙ্গে সিয়াম পরিবহন বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ওই সময়ে সিয়াম পরিবহনে সুপারভাইজারের দায়িত্ব পালন করছিলেন রবিউল। দূর্ঘটনায় তার বাঁ হাতটি কেটে পড়ে যায়। প্রথমে রবিউলকে নাটোরের বনপাড়ায় আমেনা ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রবিউলের স্ত্রী সাজেদা বেগম বলেন, শুক্রবার (৬ মে) সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন রবিউল। কাজ শেষে শনিবার (৭ মে) দুপুরে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই স্বামীর দূর্ঘটনার খবর পান তিনি। সংসারে তিনিই ছিলেন একমাত্র রোজগার করা ব্যক্তি। এখন সংসার কীভাবে চলবে, স্বামীর চিকিৎসা কীভাবে করাবেন ও ছেলেদের ভবিষ্যত কী হবে, সেই চিন্তা করে ঘুম হারাম হয়ে গেছে সাজেদার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল ন্যাশনাল পরিবহন। অন্যদিকে, রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল সিয়াম পরিবহন। শনিবার বেলা ১১টার দিকে বড়াইগ্রামের মহিষভাঙ্গা এলাকার গাজী রাইস মিলের সামনে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর সিয়াম পরিবহন রাইস মিলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। অন্যদিকে, ন্যাশনাল পরিবহন সড়কের পাশে থাকা গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সড়ক থেকে নিচের দিকে নেমে যায়।
এ দূর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ন্যাশনাল পরিবহনের চারজন ও সিয়াম পরিবহনের দু’জন যাত্রী মারা যান। পরে হাসপাতালে একজন মারা যান। উভয় বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হন। সংঘর্ষে রবিউল ইসলামের বাঁ হাতটি কেটে পড়ে যায়।
