আলো ডেস্ক: সিগারেটের দাম সর্বনিম্ন পাঁচ টাকা করার পাশাপাশি সব ধরনের সিগারেটের জন্য অভিন্ন কর নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স আত্মা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘কেমন তামাক কর চাই’ বিষয়ক প্রাক বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠন দুটি। সংবাদ সম্মেলনে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য তামাক কর ও দাম সংক্রান্ত বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রজ্ঞার প্রকল্প প্রধান মো. হাসান শাহরিয়ার।
তিনি বলেন, আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে নিম্ন স্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করে ৩২ দশমিক ৫০ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ, মধ্যম স্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৭৫ টাকা নির্ধারণ করে ৪৮ দশমিক ৭৫ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ, উচ্চ স্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১২০ টাকা নির্ধারণ করে ৭৮ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ ও প্রিমিয়াম স্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১৫০ টাকা নির্ধারণ করে ৯৭ দশমিক ৫০ টাকা শুল্ক আরোপ করা হোক। এর পাশাপাশি মধ্যমেয়াদে (২০২২-২৩ ও ২০২৭-২৮) সিগারেটের মূল্যস্তরের সংখ্যা চারটি থেকে দুটিতে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়।
কারণ বর্তমানে চার স্তর বিশিষ্ট অ্যাডভ্যালুরেম করকাঠামো চালু থাকায় সিগারেট অত্যন্ত সস্তা ও সহজলভ্য হয়ে পড়ছে। সিগারেট ছেড়ে দেওয়ার পরে কম দামি ব্র্যান্ড বেছে নিতে পারছেন তারা। হাসান শাহরিয়ার বলেন, তামাক কর ও মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে ধূমপায়ীর সংখ্যা কমবে। প্রায় ১৩ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবেন।
দীর্ঘমেয়াদে চার লাখ ৪৫ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক ও চার লাখ ৪৮ হাজার তরুণের অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সিগারেট খাত থেকে সরকারের নয় হাজার দুইশ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে। এছাড়াও বিড়ি, জর্দা এবং গুলের মূল্যবৃদ্ধি স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে এসব পণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করবে। তিনি আরও বলেন, তামাক ব্যবহারজনিত রেগে প্রতিবছর এক লাখ ৬১ হাজারের অধিক মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তামাক ব্যবহারের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা, যা একই সময়ে তামাকখাত থেকে অর্জিত রাজস্ব আয়ের (২২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা) চেয়ে অনেক বেশি।
সংবাদ সম্মেলনে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহবায়ক ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য যত কথা বলে যাচ্ছি, ততই দেখা যাচ্ছে এর প্রচারণা আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। তামাক কোম্পানিগুলোর সিএসআর নিষিদ্ধ করা উচিত বলে মনে করি। তারা স্কলারশিপ দেয়, কৃষকদের সহায়তার নামে কিছু ঋণ দেয়। এসব তাদের খুব একটা লাভ হয় না বরং ক্ষতি হয়। সেটি আমরা অনেক জায়গায় দেখেছি।
তামাক থেকে বেশি লাভবান হতে পারে কৃষক যদি অন্য ফসল করে। আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) রিসার্চ ফেলো সৈয়দ ইউসুফ সাদাত, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে) বাংলাদেশের লিড পলিসি অ্যাডভাইজর মো. মোস্তাফিজুর রহমান, আত্মার কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন ও প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের।
