স্টাফ রিপোর্টার
গত ১২ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিবের দপ্তরে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্খিত ঘটনার প্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হবার পর বিষয়টির সুষ্ঠ তদন্ত করার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি পাঠানো হয় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে। গতকাল সোমবার ১১ অক্টোবর সকাল থেকে উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি বোর্ড সভাকক্ষে তদন্ত কার্য পরিচালনা করেন। উক্ত তদন্ত কমিটিতে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড কমিটির সমন্বয়ক ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ খাঁনকে প্রধান করে সদস্য সচিব হিসেবে রাখা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন ও মাউশির হিসাব ও নীরিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদকে। রাজশাহীতে আগত সেই উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটির সাথে গণমাধ্যম কর্মীরা সরেজমিনে গিয়ে সাক্ষাতকালে তদন্ত কমিটি নিরপেক্ষতার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে বলেন, আমাদেরকে কোন পক্ষ কোনভাবেই প্রভাবিত করতে পারবেনা। তিঁনি আরো বলেন, উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত প্রতিটি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকাকে প্রাধান্য দেয়া হবে। এছাড়া তিঁনি আরো জানান, উক্ত ঘটনার সাথে যারা সম্পৃক্ত ও প্রত্যক্ষদর্শী তাদের প্রত্যেকের বক্তব্যই শুধু নয়; বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কাগজীয় ডকুমেন্টও আমাদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। আমরা কারো মিত্র না, আবার আমরা কারো শত্রুও না। ঘটনার প্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্ত করার পর পর্যালচনা ও বিশ্লেষণ সাপেক্ষে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার আশ্বাস প্রদান করেন তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ খাঁন।
তিঁনি সাংবাদিকদের আরো বলেন, এই ধরনের ঘটনা বিব্রতকর। সরকার আমাদের নিয়োগ দিয়েছেন সেবাগ্রহীতাদেরকে নিরঙ্কুশভাবে সেবা প্রদানের লক্ষে। নিজেদের মধ্যে রেষারেষি, আন্তকোন্দল, অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ যদি চলতেই থাকে তবে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কাজের গতি হ্রাস পাবে। সেবাগ্রহীতারা আমাদের জন্য কেনো ভুক্তভোগী হবেন। তিঁনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ঢাকা বোর্ডে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটার কোন সুযোগই নাই। কারণ সেখানে সকলেই বোর্ডের নিয়মনীতি ও বিধিবিধান মান্য সাপেক্ষেই সকল কাজ সম্পাদন করেন। আর এটাই হওয়া উঁচিত। আমাদের সকলকেই অর্ডিন্যান্স ও নিয়মনীতি মেনেই চলতে হবে। চাকুরী করতে এসে নিজের মন মতো চলা স্বাভাবিক কাজে বিরূপ প্রভাব ফেলে।
তিঁনি আরো বলেন, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিবের কক্ষে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনাটি গণমাধ্যমের সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও সচিব মহাদয় এর দৃষ্টিগোচর হয়। বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সরেজমিনে তদন্ত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে আজ সোমবার আমরা রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এসেছি। তিঁনি আরো বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে সত্য বিষয়গুলোই উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে ডকুমেন্ট আকারে উপস্থাপন করা হবে। উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা সকল কিছু বিশ্লেষণ সাপেক্ষে চুড়ান্ত একটি সিদ্ধান্ত নেবেন। নেহাল আহমেদ খাঁন বলেন, শিক্ষা বোর্ডের একজন গার্ড থেকে সর্বোচ্চ কর্মকর্তা চেয়ারম্যান পর্যন্ত চেইন অব কমান্ড মানতে বাধ্য। এটাই নিয়ম। প্রমাণ ব্যতীত আমাদের কাছে কোন কিছুই গ্রহণযোগ্য না বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক নেহাল আহমেদ খাঁন ।
