সম্পাদকীয়: সারা দেশে ব্যাংঙের ছাতার মতো অবৈধ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। এতে রুগীরা প্রতারণার শিকার হলেও নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় নি। তবে দেরিতে হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সারা দেশে অনিবন্ধিত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের জন্য অভিযান শুরু করেছে গত ২৮ মে।
এ দিন বিকেল পর্যন্ত মোট ৮৪০টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। চট্টগ্রাম বিভাগে সব চেয়ে বেশি অনিবন্ধিত চিকিৎসা কেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে। যার সংখ্যা ২২৯টি। ঢাকা বিভাগে ১৬৭টি, খুলনায় ২০৪টি, রাজশাহীতে ৭৮টি, ময়মনসিংহে ৯৬টি, বরিশালে ৫৯টি, সিলেটে ৩৫টি এবং রংপুরে ১৪টি স্বাস্থ্য অনিবন্ধিত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। গত ২৫ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পর্যবেক্ষণ ও তত্বাবধান বিষয়ে সভা হয়। ওই সভায় ৭২ ঘন্টার মধ্যে সারা দেশের অনিবন্ধিত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক অভিযান শুরু হয় ২৮ মে।
অভিযানের সময় অধিকাংশ অনিবন্ধিত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মালিক বা কর্মচারীদের পওয়া যায় নি। তারা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান। অভিযান হতে পারে এমন সংবাদের ভিত্তিতে তারা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে আত্মগোপন করেন। এমনকি মালিক পক্ষের কেউ ফোনও রিসিভ করেন নি। সবচে মারাত্মক ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের শিমরাইল এলাকায়। অভিযান হতে পারে এমন খবরে ভয় পেয়ে অস্ত্রোপচারের টেবিলে প্রসূতি ও নবজাতককে স্বজনদের কাছে রেখে পালিয়ে গেছেন ক্লিনিক কর্মীরা। খবর পেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও নবজাতককে উদ্ধার করে মাতুয়াইল শিশু মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন। আশার কথা মা ও নবজাতক সুস্থ আছে।
নারায়ণগঞ্জের শিমরাইল এলাকার এ ক্লিনিকটির নাম পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল। রজব আলী সুপার মার্কেটের দোতলায় অবস্থিত। সেখানে গিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের মালিক বা কর্মচারীদের না পেলেও প্রধান ফটক সিলগালা করা দেখতে পান। এ প্রতিষ্ঠানটি আগে দ্য পপুলার হাসপাতাল নামে পরিচিত ছিল। সরকারি অনুমোদন না থাকায় তিন বছর আগে সিলগালা করে দিয়েছিল প্রশাসন। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি ব্রাইট হাসপাতাল নামে কার্যক্রম চালাতো। হাসপাতালের ভেতরে ছোট আকারের পাঁচটি কক্ষ রয়েছে।
একটি হাসপাতালের জন্য নুন্যতম যে অবকাঠামো থাকা দরকার, তা এ প্রতিষ্ঠানটিতে নেই। শুধু তাই নয়, হাসপাতালটির ফটকে লিখা হাসপাতাল বন্ধ, সংস্কার কাজ চলছে। এমন লিখার কারণ অভিযানে অংশ নেয়া দলকে বোকা বানানো বলে মনে করেন ঢাকা সিভিল সার্জন। তিনি আরো বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কখনো অনুমোদনের জন্য কোনো আবেদনও করে নি। দেশে নিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১০ হাজার ৮৯৩। তবে অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের কোনো পরিসংখ্যান নেই।
সেখানে জীবন বাঁচাতে মানুষজন আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যলয় থাকার পরও এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি করতে দেখা যায় না। সেই কারণে দীর্ঘ দিন ধরে মানুষের জীবন মৃত্যু নিয়ে তাদের ব্যবসা করতে দেখা যাচ্ছে। তাই আমরা মনে করি এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা হোক এবং মাসে না হলেও দু’ মাসে এমন অভিযান করা হোক। মানুষের জীন বাঁচাতে জীবন সাজাতে প্রশাসন এ উদ্যোগ নেবে বলে আশা করি এবং বিশ্বাস করি মানুষের জীবন নিয়ে কেউ ব্যবসা করতে পারবে না।
