আলো ডেস্ক: ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে পরাজিত শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। গতকাল বুধবার ভয়েস ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ভোটার রাইটসের আয়োজনে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ মিলনায়তনে ‘নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের প্রয়োজনীয়তা ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। মান্না বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন তো শুনেছেন। তিনি বলেছেন আমরা বিনা ভোটে ক্ষমতায় থাকতে চাই না। সুসংবাদ।
তাহলে আছেন কেনো? আপনি তো জনগণের ভোটে নির্বাচিত নন। আওয়ামী লীগ হল রাজনীতিতে পরাজিত শক্তি৷ উনি সংবাদ সম্মেলনে যা বলেছেন তার কথার কোনো মূল্যই নেই। তিনি বলেন, বাংলার আকাশে আজ সত্যিই দুর্যোগের ঘনঘটা। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে আগামী ৭ দিনে পানি কমার কোনো সম্ভাবনা নাই। কালকে শুনলাম ফেনীতেও বন্যার পানি এসেছে।
অতীতেও আমরা দেখেছি দেশে যখন করোনা বাড়ছিল, তখন ওঁর পিতার একটি বিশেষ আয়োজন নিয়ে ওঁরা ব্যস্ত ছিলেন। আজকে যখন বন্যার পানিতে সিলেট, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ভেসে যাচ্ছে, উনি পদ্মা সেতুর উদ্বোধন নিয়ে ব্যস্ত। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, মানুষ যখন উপরের দিকে যায়, তখন দৃষ্টি প্রসারিত হয়। কিন্তু, ওঁর দৃষ্টি আরও ছোট হয়েছে, যেটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। উনি আজকে সংবাদ সম্মেলনে বললেন- ড. ইউনুস পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে বলায় বিশ্ব ব্যাংক টাকা দেয় নি।
আমি চ্যালেঞ্জ করছি, কেউ পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে বলেনি। ভূপেন হাজারিকা সেতুর সঙ্গে তুলনা করে মান্না বলেন, ৬.১৫ কিলোমিটারের সেতু করতে কেনো ৪০ হাজার কোটি টাকা লাগল? ক্ষমতাচ্যুত হলে পাই পাই করে হিসেব নেওয়া হবে। মান্না আরও বলেন, মানুষ এ সরকারকে চায় না। তাই এখনো আমাদের লড়াই শেষ হয়নি। বহুদেশ আজকে বলেছে অতীতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়নি।
আমরা চাই একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক। আমরা সমস্ত বিরোধীদল একমত হয়েছি এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব না। আমরা অন্তবর্তীকালীন সরকার চাই। হয়ত সময় বেশি লাগবে কিন্তু এ স্বৈরাচার চিরস্থায়ী হবে না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, কৃষক দলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহজাহান মিয়া সম্রাট, তাঁতি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন আহবায়ক মনিরুজ্জামান মনির, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাহ আলম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল কাদের গণি চৌধুরী, ভয়েস ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড রাইটসের হুমায়ুন কবীরসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
