স্টাফ রিপোর্টার-
তুলনামূলক সংখ্যক গবাদিপশু থাকলেও ছিলনা বিক্রি। ফলে দিনভর পশু নিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সময় কাটে অনেক খামারি ও ব্যাবসায়ীর। অনেকের পশু শেষ পর্যন্ত বিক্রি না হওয়ায় ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন। রাজশাহীর সিটি হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
হাটের হাজারাদার ও পশু নিয়ে আশা খামারি ও ব্যাবসায়ীরা জানান- কোরবানির ইদের বেশি সময় নেই। গেল বছর করোনার পরেও ইদের আগের এই সময়ে হাটে ভালো কেনাবেচা হয়েছে। কিন্তু এবছর হাটে তুলনামূলক ক্রেতা ও বিক্রেতা কম।
কয়েকজন ক্রেতা জানায়, হাটে কেনাবেচা কম হচ্ছে। কারণ ব্যাপারিরা এখনও হাটে নামেনি। এছাড়া বন্যা একটি কারণ হতে পারে। তবে হাটে ক্রেতা কম থাকলেও পশু বিক্রেতা দামে ছাড়ছেন না।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ৮টি গরু বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন মাহিদুল ইসলাম। তিনি দুপুর ১২টার দিকে জানান- দুইটা গরু বিক্রি হয়েছে তার। বাকি ছয়টি গরু নিয়ে তিনি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে আছেন।
মাহিদুল আরো জানান, ‘বাজার ভালো না। হাটে গরু, মহিষ কম উঠেছে। তারপরেও ক্রেতা কম। বিক্রি হচ্ছে না গরু। অনেকেই ১০ থেকে ১৫টি করে গরু নিয়ে এসেছেন। তাদের দুটি-তিনটি বেশি গরু বিক্রি হয়নি। গরুর দামই বলছে না কেউ, বিক্রি তো দূরের কথা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে পশু (গরু-মহিষ) আনতে পথে ভোগান্তি হচ্ছে কি? এমন কথার উত্তরে তিনি জানান, ‘না’। পথে কাউকে চাঁদা বা অন্য কোনো হয়রানির শিকার হতে হয়নি।’
গরু ব্যবসায়ী আজমল জানান, ‘গত বছর কোরবানি ইদে এই হাটে ক্রেতারা ২২ থেকে ২৬ হাজার টাকা মণ টার্গেটে গরু কিনেছেন। এবছর ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা মণ টার্গেটে মানুষকে কোরবানির গরু কিনতে হবে। কারণ সবকিছুর সাথে বেড়েছে গরুর মাংসের দামও।’
বাড়িতে লালনপালন করে হাটে গরু বিক্রি করতে এসেছেন আব্দুর রহিম। তিনি জানান, গরু লালন-পালন করতে পানিসহ সবকিছুই কিনতে হয়। খরচ শুরু গরু কেনা থেকে। এরপরে লালন-পালন বাবদ- খড়, ধানের গুড়া, চালের গুড়া, খৈল, গমের আটা, অ্যাঙ্করের ভূষি ছাড়াও বিভিন্ন চিকিৎসা খরচ রয়েছে। এইগুলোর পরেই একটি গরু বিক্রির উপযুক্ত হয়ে উঠে।
তিনি আরো বলেন, যেভাবে সবকিছুর দাম বেড়েছে, সেই ভাবে আমরা গরুর দাম পাবো কী না জানি না। তারপরে যদি ভারত থেকে গরু আসে তাহলে আমাদের মতো ছোট খামারিরা লোকসানের মুখে পড়বে।
গরু ক্রেতা আলতাফ হোসেন জানান, কোরবানি ইদের দুই সপ্তার বেশি সময় বাকি। অনেকেই কোরবানির গরু রাখার সমস্যার কারণে কিনছেন না। তারা ইদের দুই-তিনদিন আগেই কিনবেন। সেই কথা ভেবে অনেকেই হাটে আসেননি।
তিনি বলেন, হাটে বেচাকেনা কম হলেও গরুর মালিকরা দামে ছাড় দিচ্ছেন না। তারা দাম বেশি হাকাচ্ছেন। তার মধ্যে দামে হয়ে গেলে অনেকেই কিনে নিচ্ছেন। তবে হাটে কোরবানির গরু ক্রেতা হাতেগোনা।
সিটিহাটের ইজারাদার ফারুক হোসেন ডাবলু জানান, হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা কম। গতবছর এই সময় হাটে কেনাবেচা ভাল হয়েছিল। কিন্তু এই বছরে কেনাবেচায় মন্দা।
