আলো ডেস্ক: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) মর্গে মরচুয়ারিতে চার বছর যাবত সংরক্ষিত ছিল মার্কিন নাগরিক রবার্ট মাইরোন বারকারের লাশ। অবশেষে সেই লাশ নিয়ে গেছেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা। ২০১৮ সালের ২৫ মে হৃদরোগে রবার্ট মাইরোন বারকারের মৃত্যু হলেও বিদেশি নাগরিক হওয়ায় সেই থেকেই লাশ ঢামেক হাসপাতাল মর্গের মরচুয়ারিতে সংরক্ষিত ছিল।
সেখানে রাখার আগে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। গতকাল শুক্রবার ঢামেক মর্গ থেকে দক্ষিণখান থানা পুলিশের উপস্থিতিতে দূতাবাসের লোকজন মার্কিন নাগরিক রবাটের লাশ নিয়ে যায়। দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল হক মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ২০১৮ সালে দক্ষিণখানে মার্কিন নাগরিক রবার্ট মাইরোন বারকার (৭৮) হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। বিদেশি নাগরিক হওয়ায় আইন অনুযায়ী তার লাশ ময়নাতদন্ত করে ঢামেক হাসপাতাল মর্গের মরচুয়ারিতে রাখা ছিল।
গতকাল শুক্রবার সেখান থেকে বাংলাদেশি স্ত্রী মাজেদা খাতুনের উপস্থিতিতে দূতাবাসের লোকজন তারলাশ নিয়ে গেছে। পরে গাজীপুরে খ্রিস্টান ধর্ম অনুযায়ী তার লাশ সমাধিস্থ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশি মাজেদা খাতুন তার স্ত্রী হলেও আমেরিকায় তার বড় স্ত্রী ও সন্তানরা রয়েছে। মৃত্যুর পরে দূতাবাসের লোকজন সেখানে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে আসছিল।
দীর্ঘ চার বছর পরে আমেরিকার পরিবারের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করতে পেরেছে। কিন্তু রবার্টের পরিবার লাশ নিতে অস্বীকৃতি জানালে দূতাবাসের লোকজন বাংলাদেশেই খ্রিস্টান ধর্ম রীতিতে তার লাশ সমাধিস্থ করেছে। প্রসঙ্গত, রাজধানীর দক্ষিণখান থানা এলাকার বাসিন্দা বেসরকারি হাসপাতালের সাবেক নার্স মাজেদা খাতুনের দাবি, ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক মার্কিন নাগরিক রবার্ট মাইরোন বারকারের সঙ্গে খ্রিষ্টধর্ম অনুযায়ী বিয়ে হয় তার।
এরপর থেকে মাজেদার সঙ্গেই সংসার করতেন রবার্ট। যিনি পেশায় একজন বিদেশি উন্নয়নকর্মী হলেও কোন এনজিওতে কাজ করতেন, তা জানাতে পারেননি মাজেদা। ল রবার্ট বারকারের মৃত্যুর যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে লাশ ফিরিয়ে দিতে দক্ষিণখান থানায় জিডি করা হয়। পরে লাশ ময়নাতদন্ত ও সংরক্ষণের জন্য পাঠানো হয় ঢামেক মর্গে।
এরপর মার্কিন দূতাবাস কিংবা রবার্টের মূল পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেও লাশ ফিরিয়ে দিতে ব্যর্থ হন মাজেদা খাতুন। তিনি বলেন, আমেরিকায় তিন-চারবার যোগাযোগ করেছি। তাদের ফোন বন্ধ, সংযোগ পাওয়া যায় না।
