আলো ডেস্কঃ ট্রেনে ঈদযাত্রার প্রথম দিন ছিল মঙ্গলবার। সকাল থেকে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে রেলযোগে ঘরে ফেরার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। তবে ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই তিনটি ট্রেন দেরিতে ছাড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। এদিন মোট ৩৭টি ট্রেন কমলাপুর থেকে ছাড়ে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার আগে কমলাপুর রেলস্টেশনে টিকিট বিক্রি নিয়ে ভিড় থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমতে শুরু করে। স্টেশনের চিত্র অন্য স্বাভাবিক দিনের মতোই ছিল। কর্মব্যস্ত অনেকেই পরিবার নিয়ে আগেভাগেই বাড়িতে চলে গেছেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বাড়ি যেতে দেখা যায়। এদিন নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি যায় নীলফামারীর চিলাহাটি। ট্রেনটি ৬টা ৪০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ১ ঘণ্টা দেরিতে কমলাপুর রেলস্টেশন ছেড়ে যায়। নীলফামারীর সৈয়দপুরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা এক যাত্রী জানান, ট্রেনটি ৬টা ৩৪মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ১ ঘণ্টা দেরি করেছে।
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ বাজারগামী তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সাড়ে ৭টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ৭টা ৫৫ মিনিটে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে যাত্রীদের। ওই ট্রেনের যাত্রী আরিফ। তিনি বলেন, ২০ মিনিট ধরে ট্রেনে বসে আছি। কিন্তু ট্রেন ছাড়ার কোনো নাম নেই। ঈদযাত্রায় প্রতিবছরই এরকম ভোগান্তি থাকে। সুন্দরবন এক্সপ্রেসের আরেক যাত্রী বলেন, পরিবার নিয়ে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছি। ভোগান্তি যেন না হয় তার জন্যই টিকেট কেটেছি ট্রেনের। কিন্তু প্রথম দিনেই ট্রেন দেরি করে ছাড়ছে।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মো. মাসুদ সারোয়ার জানান, স্টেশনে ট্রেন দেরি করে আসায় ট্রেন ছাড়তে দেরি হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেন ছাড়ার সব প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, অগ্রিম টিকিট বিক্রির ট্রেনের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। সবগুলো ট্রেনই সিডিউল অনুযায়ী ছেড়েছে। শুধু রংপুর এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস, ধুমকেতু এক্সপ্রেস ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস কিছুটা দেরিতে ছেড়েছে। ট্রেন বিলম্বে আসায় ছাড়তে দেরি হয়েছে। এটাকে আসলে সিডিউল বিপর্যয় বলে না। নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেন ছাড়ার সব প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। তিনি বলেন, গতকাল (গত সোমবার) একটি ইঞ্জিন বিকলের ঘটনা ঘটেছে। সে কারণে ট্রেন আসতে দেরি হয়েছে।
এখান থেকে ছাড়তেও দেরি হয়েছে। তিনি বলেন, একটা সময় ছিল যখন সকালের ট্রেন বিকেলে, বিকেলের ট্রেন রাত ১২টায় বা পরের দিন এসেছে। এখন সে অবস্থা নেই। আমরা চাই মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে। সবাই আনন্দ করার জন্যই বাড়ি যাচ্ছে, এতে যেন কোনো বিঘœ না ঘটে। মাসুদ সারওয়ার বলেন, আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। অনাকাক্সিক্ষত কোনো ঘটনা না ঘটলে বা দুর্ঘটনা না হলে আমরা ঈদযাত্রার বাকি দিনগুলোতে ঠিক সময়েই ট্রেন ছাড়তে পারবো।
মাসুদ সারওয়ার বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি ঢাকাণ্ডলালমনিরহাট, ঢাকাণ্ডখুলনাসহ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনের ৯ তারিখ রাতের যেসব টিকিট বিক্রি হচ্ছে সেসব কাউন্টারে টিকিটের চাহিদা কম। টিকিটপ্রত্যাশীদের তেমন ভিড় নেই। ঈদে ট্রেন দুর্ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকেই ঈদযাত্রায় তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। আমাদের প্রতিটি স্টেশনে বলা আছে যেন যাত্রীরা নিরাপদে নামতে পারে। কেউ যেন ট্রেনের ছাদে উঠতে না পারে। কয়েক মিনিট বিলম্ব হলেও যাত্রীরা যেন নিরাপদে ওঠানামা করতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে তিনি বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেছে। আমরা যাত্রীদের বলেছি যেন তারা মাস্ক পরিধান করে। নিজে এবং অন্যান্যের নিরাপদে রাখে। মাস্ক পরতে উৎসাহিত করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করার সময়ই গেটে যাত্রীদের মাস্ক পরার কথা বলছি। কিন্তু কিছুকিছু বিষয় আছে আমরা বললাম কিন্তু সেটা পরে মানছে কি না। যে সচেতনতা দরকার এটা তারা মানছে কি না এটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শেষ হয় মঙ্গলবার।
