ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) রাজশাহী ও রাজশাহী আঞ্চলিক অফিসে আনসার সদস্য, দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ছেন এই অঞ্চলের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনকারীরা। তাদেরকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা না দিলে মিলে না ড্রাইভিং লাইসেন্স। এইসব ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার সময় পার হয়ে গেলেও তা মিলে না গ্রাহকদের হাতে। বিভিন্ন অজুহাতে ঘোরানো হয় আবেদনকারীদের। রাজশাহী মহানগরীর ৫নং ওয়ার্ডের অধিবাসী রাজপাড়া মহল্লা নিবাসী মোঃ মুর্তজা হোসেন আমাদের প্রতিবেদককে বলেন, নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত টাকা না দিলে মাসের পর মাস ঘোরানো হয় প্রতিটি আবেদনকারীকে এই অফিস থেকে।
আনসার সদস্য, দালাল চক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে আবেদনপত্র জমা দিলে ভোগান্তি ছাড়াই নির্ধারিত সময়ে পাওয়া যায় প্রত্যেকটি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স। এমনকি লিখিত পরীক্ষায় পাস করানোর দায়িত্বও নেন এইসব দালাল চক্র। এই মহানগরীর গুড়িপাড়া নিবাসী মোঃ গোলাম মোস্তফা নামে ড্রাইভিং লাইসেন্সের এক আবেদনকারী আমাদের প্রতিবেদককে জানান, তিনি গত ৩ মাস আগে এই অফিসে তার মোটর সাইকেল এর ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে যান, লার্নার কার্ডের জন্য এই দালাল চক্রের সঙ্গে ৯ হাজার টাকার চুক্তি করেন।
তিনি আরও বলেন, এই বিআরটিএ অফিসে আমার মোটর বাইকের জন্য পরীক্ষা দিতে আসলাম। ১৫ সেকেন্ডের জন্য একটি গাড়িতে উঠলাম আর নামলাম। ইহার জন্য এই দালাল চক্রকে দিতে হল=২০০ টাকা। যে গাড়িটি দিয়ে আমার পরীক্ষা নেওয়া হল, সেটির অবস্থা ছিল বেহাল অবস্থা। ড্রাইভিং লাইসেন্সের লার্নার কার্ড নিতে আসা রাজশাহী মোহনপুর উপজেলার সইপাড়া গ্রাম নিবাসী মোঃ আব্দুর রাজ্জাক আমাদের প্রতিবেদককে বলেন, এই রাজশাহী বিআরটিএ অফিসে কোন আবেদনকারী এই দালাল চক্র ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে পারে না।
এই বিষয়ে আমাদের প্রতিবেদক এই বিআরটিএ আঞ্চলিক অফিসের সার্কেল অফিসার এর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আমাদের এই অফিসে আগে দালাল চক্র থাকলেও এখন কোন দালাল চক্র নাই। কোন আনসার সদস্য, কোন লোকজন এইসব কাজে জড়িত থাকলে, আর ইহা প্রমাণ হলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিব।
