স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহী তথা বরেন্দ্র অঞ্চলে অন্যান্য বারের চেয়ে এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন এখানকার কৃষকরা। ইতিমধ্যে মাঠ থেকে ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা। এরপর আমন ধান মাড়াই করে ঘরে তোলা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বাড়ির নারী সদস্যরাও। সংশ্লিষ্ট সুত্র বলছে, প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও সার ঘাটতিসহ নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে রাজশাহীতে আমনের বাম্পার ফলনের আশা রয়েছে ।
আমনের ভরা মৌসুমে এ বছর সারের ঘাটতির মুখে পড়েছিলো কৃষক। বিশেষ করে এমওপি এবং টিএসপি সারের ঘাটতি দেখা দিয়েছিলো।গত জুলাই মাসে চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৩৬ মেট্রিক টন এমওপি সারের ঘাটতি ছিল। আগস্টেও প্রায় ৮০০ মেট্রিক টনের মতো ঘাটতি ছিলো। আর এই ঘাটতির মধ্যে অসাধু সার ব্যবসায়ীদের কারসাজিও ছিলো। তবে সবকিছু মোকাবিলা করে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে আবাদের যতœ নিয়েছিলেন কৃষকরা। এতে আবাদকৃত জমির আশানুরুপ ফলনের কথাই বলছেন চাষীরা।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবছর রাজশাহীতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা যেখানে ছিলো ৮০ হাজার ৫০ হেক্টর। এখন পর্যন্ত আমনের আবাদ হয়েছে ৮০ হাজার ৮৮০ হেক্টর। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৭৯ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন।
আমন মৌসুমে যে আবাদ হয়েছে তার মধ্যে ১১২০ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। যা মোট আবাদের ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। কর্তনকৃত ধানের ফলন হয়েছে ৩ হাজার ৫৩৭ মেট্রিক টন।
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কৃষক মনির বলেন, এবছর আমন আবাদের শুরুতেই কৃষকরা ধাক্কা খেয়েছে। পানি ও সারের ঘাটতি ছিল; যেটার সুযোগ নিয়েছিলো অসাধু সিন্ডিকেট। এতে প্রান্তিক পর্যায়ে অনেক কৃষক সরকার নির্ধারিত দামে সার পাননি। বেশি দামে সার কিনতে হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তবে কৃষক যেটুকু জমিতে আবাদ করেছে সেটার পূর্ণ যত্ন নিয়েছে। রাসায়নিক সারের বদলে ছাই ও গোবর সার ব্যবহার করেছে। একারণে ফলনহানির বিষয়টি এখন পর্যন্ত হয়নি।
রাজশাহী তানোর উপজেলার জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক নূর মোহাম্মদ বলেন, ভরা মৌসুমে এবার রাসায়নিক সারের ঘাটতি ছিলো। ডিলারদের কাছে চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে হাট-বাজারের দোকান থেকে চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য হয়েছেন তারা। কোনো সারই সরকার নির্ধারিত দামে তারা পান নি। এতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তবে প্রথম দিকে ফলন হানির যে শঙ্কা ছিলো; সেটা নাই। এখন পর্যন্ত ভালো ফলন আছে।
তিনি আরো বলেন, তিনি এরইমধ্যে কিছু আমন ধান কেটেছেন। কিছু আধাপাকা এবং কিছু কর্তনযোগ্য অবস্থায় রয়েছে। ফলন নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন বলেন , রাজশাহীতে এবারও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে।
ফলনও অনেক ভালো। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া ফলন হানির তেমন কোনো শঙ্কা নেই। তবে আমরা প্রাকৃতিক দূর্যোগ সিত্রাং নিয়ে ব্যাপক দুঃচিন্তায় ছিলাম। অন্যান্য জেলায় সিত্রাং এর প্রভাবে আমন ধানের অনেক ক্ষতি হয়েছে তবে রাজশাহীতে তেমন কোন ক্ষতি হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সার নিয়ে কিছু কথা শোনা গিয়েছিলো। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিনিয়তই বিষয়টি মনিটরিং করেছেন।
