আলো ডেস্ক: যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার শাকিল হাসান ও ক্যামেরা পারসন শাহীন আলমকে মারধর করে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা মামলাটি রায় থেকে উত্তোলন করে ফের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) রেজাউল করিম চৌধুরীর আদালতে মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন ঘটনার সময় ধারণকৃত মামলার জব্দকৃত সিডি প্রর্দশনের জন্য বিচারক রাষ্ট্রপক্ষকে আদেশ দেন।
একই সঙ্গে মামলাটি রায় থেকে উত্তোলন করে জব্দকৃত সিডি প্রদর্শন ও তদন্তকারী কর্মকর্তার এ বিষয়ে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন। ওইদিনও মামলার রায় প্রস্তুত না হওয়ায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) রেজাউল করিম চৌধুরী তা পিছিয়ে ১৮ অক্টোবর ধার্য করেন। ওইদিনও রায় প্রস্তুত না হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন।
এ নিয়ে তৃতীয় দফা রায় ঘোষণার তারিখ পরিবর্তন হলো। মামলার ছয় আসামি হলেন- শাওন হাওলাদার, আবদুর রহিম, অভি, হাবিবুর রহমান, জব্বার ও জাকির হোসেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর রাজধানীর চকবাজারে দেবীদাস লেনে অবৈধ পলিথিন ব্যাগ তৈরির কারখানা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে হামলার শিকার হন যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার শাকিল হাসান ও ক্যামেরা পারসন শাহীন আলম। রহিম, জব্বার, জাকিরের নেতৃত্বে হামলাকারীরা তাদের ওপর চড়াও হন এবং ক্যামেরা ভাঙচুর করেন। হামলা থেকে বাঁচতে তারা কাছের একটি মুদি দোকানে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা শাকিল হাসানের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন বাধা দেওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান শাকিল।
ওই ঘটনায় শাকিল হাসান বাদী হয়ে চকবাজার থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। এরপর ২০১৭ সালের ৬ জুন চকবাজার থানার পুলিশ আটজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন চকবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক মোরাদুল ইসলাম। তারা হলেন- শাওন হাওলাদার, আবদুর রহিম, অভি, হাবিবুর রহমান, জব্বার, জাকির হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম ও ইলিয়াস হোসেন। এরপর ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারি আসামি জাহাঙ্গীর আলম ও ইলিয়াস হোসেনকে অব্যাহতি দিয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। বিচারচলাকালীন ১২ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।
