সম্পাদকীয়: একের পর এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। কখনো গাড়ি উল্টে, কখনো মুখোমুখি সংঘর্ষ, আবার কখনো বা অতিরিক্ত গতি, কখনো বা নিয়ন্ত্রণ হারানোসহ নানা কারণে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে এবং বাড়ছে লাশের সংখ্যা। সঙ্গত কারণেই সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে এর ভয়াবহতা আমলে নিতে হবে। একইসঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, ঘন কুয়াশায় বৃহস্পতিবার দেশের ৯ জেলার বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। আর এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ২১ জন আহত হয়েছেন।
এর মধ্যে যশোর সদর ও মণিরামপুরে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় চারজন, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পৃথক আটটি দুর্ঘটনায় তিনজন এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে চারজন নিহত হন। এ ছাড়া ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও কক্সবাজার, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড, দিনাজপুরের চিরিরবন্দর, বাগেরহাটের ফকিরহাটে একজন করে নিহত হন। টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু পূর্ব সেতু এলাকায় এক কিলোমিটার অংশে আটটি পৃথক দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া ঘন কুয়াশার কারণে পদ্মা সেতুতে পরপর তিন বাসের ধাক্কার ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজন আহত হন। আমরা মনে করি, যখন প্রতিনিয়ত নানাভাবে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে, তখন এর পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। শুধু এবারে নয়, এর আগেও নসিমন উল্টে, মুখোমুখি সংঘর্ষসহ নানা কারণে সড়কে প্রাণ হারিয়েছে মানুষ। এ ছাড়া রাস্তা সংস্কার না হওয়াসহ দুর্ঘটনার নানাবিধ কারণও আলোচনায় এসেছে। ফলে দুর্ঘটনার কারণগুলো আমলে নিয়ে সর্বাত্মক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার বিকল্প থাকতে পারে না।
এটাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি যে, সড়ক দুর্ঘটনায় নানান শ্রেণিপেশার মানুষ যেমন প্রতিনিয়ত চলে যাচ্ছে না ফেরার দেশে, তেমনি অনেক সম্ভাবনার মৃত্যু হচ্ছে অকালেই। যখন সড়কে একের পর এক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে তখন সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নেওয়া অপরিহার্য। সংশ্লিষ্টদের আমলে নিতে হবে, বিভিন্ন সময়েই দুর্ঘটনার কারণ আলোচনায় এসেছে। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালনা; বিপজ্জনক অভারটেকিং; রাস্তাঘাটের ত্রম্নটি; ফিটনেসবিহীন যানবাহন; যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা; চালকের অদক্ষতা; চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার; মাদক সেবন করে ড্রাইভিং; রেলক্রসিং ও মহাসড়কে হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসা; রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা ফুটপাত বেদখলে থাকা; ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ এবং ছোট যানবাহন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণ উঠে এসেছে।
সঙ্গত কারণই সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প থাকতে পারে না। আমরা মনে করি, সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা অনুধাবন করা অপরিহার্য। প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো অঞ্চলে দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে। বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিভীষিকা থেকে কিছুতেই যেন রক্ষা পাচ্ছে না মানুষ। ফলে এ থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে হবে এবং দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পরিবহণ বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, সড়ক-মহাসড়কের ত্রম্নটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক, মানুষের ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর দুর্বলতাসহ বিভিন্ন কারণে দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা কমছে না।
ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলেই প্রতীয়মান হয়। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, একের পর এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা কেন ঘটছে এবং এর জন্য দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দেশে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলো বিবেচনায় নিয়ে যত দ্রম্নত সম্ভব সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। মনে রাখা দরকার, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে, কিন্তু যদি যাতায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয় তবে তার চেয়ে পরিতাপের আর কী হতে পারে! সড়কে মৃত্যুর বিভীষিকা এমন, যেন সড়ক পথ একটা মৃত্যুর ফাঁদ! সঙ্গত কারণেই সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে দুর্ঘটনার কারণগুলো সামনে রেখে সেই মোতাবেক যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে- এমনটি কাম্য।
