আলো ডেস্ক: রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার অস্ত্র মামলায় ‘ডাবল’ যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে এস এম রাকিবুজ্জামান ওরফে রাকিব ওরফে মিঠু নামে নরসিংদীর এক আসামির। কিন্তু এলাকা ও নামের মিল থাকায় বুয়েট থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা প্রকৌশলী মো. রাকিবুজ্জামান খানকে খুঁজকে পুলিশ। এ ঘটনায় তদন্ত চেয়ে প্রকৌশলী রাকিবুজ্জামান উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলে প্রকৃত আসামি কে, তা তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী তিনমাসের মধ্যে পুলিশের মহাপরদির্শক ও নরসিংদীর পুলিশ সুপারকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রকৌশলী রাকিবুজ্জামান খানকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো.বশির উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফয়সাল হাসান আরিফ। ৩৮ বোরের একটি রিভলবার, ৫ রাউন্ড গুলি এবং একটি ম্যাগাজিনসহ তিন আসামিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ১৯৯৯ সালের ১৬ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করে পুলিশ।
ওই মামলার এক নম্বর আসামি করা হয় এস এম রাকিবুজ্জামান ওরফে রাকিব নামের নরসিংদীর এক ব্যক্তিকে। অন্য দুই আসামি হলেন- মো. সালাউদ্দিন ও কামরুল রহমান ওরফে মনির। এজাহারভুক্ত আসামি এস এম রাকিবুজ্জামান ওরফে রাকিবের নামের সঙ্গে চার্জশিটে মিঠু শব্দ যুক্ত করা হয়। তার বাবার নাম ডা. মো. কামরুজ্জামান খান ওরফে হিরু। বিচার শুরুর পর ২০০৬ সালের ২৩ ফেব্রæয়ারি জামিনে মুক্তি পান আসামি রাকিব ওরফে মিঠু। এরপর পালিয়ে যান তিনি। ২০১৪ সালের ১৩ জুলাই ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-১ এবং মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলায় রাকিবসহ তিন আসামিকে অস্ত্র আইনের দুটি ধারায় ‘ডাবল’ যাবজ্জীবনসহ সশ্রম কারাদন্ড দেন।
একই সঙ্গে সব আসামি পলাতক থাকায় সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেন আদালত। এখন এ মামলায় প্রকৃত আসামি রাকিবের পরিবর্তে প্রকৌশলী মো. রাকিবুজ্জামান খানকে খুঁজছে পুলিশ। এমন অভিযোগ এনে প্রকৌশলী মো. রাকিবুজ্জামান খান চিঠি দিয়েছিলেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। চেয়েছিলেন তদন্ত। কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় রিট করেন হাইকোর্টে। প্রকৌশলী রাকিবুজ্জামানের দাবি, তার বাবার নাম মো. কামরুজ্জামান খান। তার বাবার নামের সঙ্গে আসামি ও আসামির বাবার নাম হুবহু এক নয়। আসামির গ্রামের ঠিকানায় সৈয়দ বাড়ি উল্লেখ আছে। আর তার বাড়ি হচ্ছে খানবাড়ি। দুজনের গ্রামের নাম এক হলেও বাড়ি ও বংশ ভিন্ন।
