ফায়সাল হোসেন
রাজশাহীর উপকন্ঠ কাটাখালি থানাধীন মোসলেমের মোড় সংলগ্ন এ সি আই কোম্পানির মোড়কে নকল জৈব সার তৈরি ও বাজার জাত করণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নকল জৈব সার তৈরির কারখানার গেট ভেতর থেকে বন্ধ। কারখানার গেটের উপরে সাইন বোর্ডে লেখা আছে আরএস এগ্রো এন্ড ফার্টিলাইজার কেমিক্যাল ইন্ডা: লি: কুখন্ডী, রন হাট, মোসলেমের মোড়, মতিহার, পবা, রাজশাহী। গেটের ওপরে দেখা যায় সিসি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে।
প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর মোঃ রফিক (৫০) নামে এক লোক বের হয়ে আসে এবং নিজেকে কেয়ার টেকার পরিচয় দেয়। তিনি বলেন কারখানার ভেতরে ম্যানেজার, মালিক কেউ নাই, শুধু শ্রমিকরা কাজ করছেন। আমি মালিকের বাড়ির কেয়ারটেকার এবং এখানেও দেখা শোনা করতে হয়। এটা কিসের কারখানা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে এসিআই কোম্পানির জৈব সার তৈরি করা হয় এবং বাজার জাত করা হয়, এর বেশি কিছু আমি জানিনা। কারখানার ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে তিনি বলেন, মালিকের অনুমতি ছাড়া আমি ভেতরে প্রবেশ করতে দিতে পারবো না বলে তিনি চলে যান। এরপর শুরু হয় অনুসন্ধান। বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল।
এই অবৈধ নকল জৈব সার তৈরির কারখানা পরিচালনাকারীরা হল, মোসা: রোজি (৪৫), মোসা: মায়া (৪০), মোঃ রতন (৫০) উভয় পিতা মৃত: জেকের আলী বালিয়াপুকুর বড় বটতলার মোড় রাজশাহী। আরেকজন হল এস এম সেলিম (৫২)। জানা গেছে, এই চারজন এসিআই কোম্পানির মোড়কে নকল জৈব সার তৈরি করছে এবং বাজারজাত করছে অনায়াসেই। অনুসন্ধানে আরও জানা যায় প্রায় ২০ বছর প‚র্বে আর এস এগ্রো এন্ড ফার্টিলাইজার কেমিক্যাল ইন্ডা: লি: এর যাত্রা শুরু হয়।
মোঃ সেলিম নামের এক ব্যক্তি এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি মারা যাবার পর এস এম সেলিম ভুয়া চেয়ারম্যান সেজে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে তৈরি করছেন নকল জৈব সার এ সি আই কোম্পানির মোড়কে। এ বিষয়ে জানতে এসএম সেলিমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, তাই তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কাটাখালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এর মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টা আমার জানা নাই, খোঁজ খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম মুঠো ফোনে বলেন, যদি কেউ পণ্য নকল করে অথবা ভেজাল পন্য প্রস্তুত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগভাবে ২ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান আছে এবং এটা বেআইনি কাজ, আমরা তার বিরুদ্ধে কঠোর ভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
