ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করেন রাজশাহী জেলা ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সেই অভিযোগ করেন রাজশাহী জেলা ও রাজশাহী মহানগরের বেশ কয়েকজন নেতা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজশাহী জেলা কার্যালয় নিয়ে প্রকাশ্যে বিভক্ত রাজশাহী আওয়ামী লীগ। এখন রাজশাহী মহানগর যুবলীগ এর কমিটি করতে নেওয়া হচ্ছে যোগ্য প্রাথীদের জীবনবৃত্তান্ত। ইহার মধ্যে অতি সম্প্রতি ‘ভাইরাল’ হয় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ডাবলু সরকার এর অশ্লীল ভিডিও।
এইসব কাজের নেপথ্যে ইন্ধন আছে রাজশাহী মহানগরের এক প্রভাবশালী নেতার। এমন দাবি রাজশাহী জেলা ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের তৃণম‚ল নেতা-কর্মীদের। ইহার ফলে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজশাহী জেলা ও রাজশাহী মহানগরীর রাজনীতি। রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল। তিনি এই নির্বাচনে বিজয়ী হন। তার বিরোধিতায় মাঠে সক্রিয় ছিলেন কেন্দ্রীয় পর্যায়ের, স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ দলের সভানেত্রী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওবায়দুল কাদের এর কাছে অভিযোগ করেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ এর একাধিক নেতা।
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, দলীয় সভানেত্রীকে জানানো হয়েছে, কারা এই জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিরোধিতা করেছেন। ইহার পর থেকে ম‚লত উত্তপ্ত হতে শুরু করে রাজশাহী জেলা ও রাজশাহী মহানগরের রাজনীতি। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের অফিস নিয়ে প্রকাশ্যে বিরোধে জড়িয়েছেন এই দলের দুইপক্ষ। ১ পক্ষে আছেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাবু অনিল কুমার সরকার, সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ দারা, রাজশাহী জেলার ৩ এম পি।
অন্যপক্ষে আছেন রাজশাহী-৪ আসনের এম পি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ এনামুল হক, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ। ইহার নেপথ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষস্থানীয় এক নেতার ইন্ধন আছে। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আব্দুস সামাদ আমাদের প্রতিবেদককে জানান, তিনি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ এনামুল হকের পক্ষে আছেন। এই জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ দারা বলেন, আমাদের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় নিয়ে কোন বিভেদ, দুরত্ব নাই।
রাজশাহী মহানগর যুবলীগের কমিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম” ফেসবুক”- এ চলছে কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি। এই মহানগর যুবলীগের সভাপতি পদে জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোঃ আব্দুল মোমিন। এই মহানগর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ তৌরিদ আল মাসুদ রনি। ইহার পর থেকে দুই প্রার্থীর সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম “ফেসবুক”-এ একে অপরকে আক্রমণ করে উস্কানিমুলক পোস্ট প্রদান করে যাচ্ছেন।
সর্বশেষ ভাইরাল হয় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ডাবলু সরকারের একটি ভিডিও। ইহার ফলেই আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠে রাজশাহী জেলা ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাঠ। ডাবলু সরকার আমাদের প্রতিবেদককে জানান, আমার এই ভিডিওর পিছনে আমাদের দলের শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতার ইন্ধন আছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন আমাদের প্রতিবেদককে জানান, প্রত্যেকটি দলের নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার কারণে দলে নানা রকম উত্তেজনা থাকে, বিভক্তি থাকে।
