আলো ডেস্ক: পাল্টাপাল্টি মিছিল, হাতাহাতি, উত্তেজনা ও হট্টগোলের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের সবকটি পদে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে আওয়ামীপন্থি সাদা প্যানেল। ভোটের প্রাথমিক ফলাফলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৪টি পদের সবগুলোতে সরকার সমর্থিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের (সাদা প্যানেল) প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। সাদা প্যানেলে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও সম্পাদক পদে বর্তমান সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুন নুর দুলাল পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নির্বাচন পরিচালনা উপকমিটির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন।
পূর্বঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের দুদিনব্যাপী (১৫ ও ১৬ মার্চ) ভোটগ্রহণের প্রথম দিন ছিল বুধবার। ভোটের আগের দিন মঙ্গলবার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান বিচারপতি মো. মনসুরুল হক চৌধুরী পদত্যাগ করলে আওয়ামী ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওইদিন রাত ৮টার দিকে আইনজীবী সমিতির তৃতীয় তলায় সেমিনার কক্ষে বক্সে রাখা ব্যালট পেপার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের বিরুদ্ধে।
এরপর নির্বাচন পরিচালনার জন্য আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল আইনজীবী শাহ খসরুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের উপ-কমিটি এবং বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে আইনজীবী এ জেড এম ফরিদুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের পৃথক উপ-কমিটি ঘোষণা করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট বারের ২০২৩-২৪ মেয়াদের কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বর্তমান সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুন নুর দুলাল। সাদা প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা হলেন-সহ-সভাপতি পদে মোহাম্মদ আলী আজম ও জেসমিন সুলতানা, ট্রেজারার পদে মাসুদ আলম চৌধুরী, সহ-সম্পাদক পদে নুরে আলম উজ্জ্বল ও হারুনুর রশিদ।
এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য পদে মনোনীত সাত প্রার্থী হলেন-মো. সাফায়েত হোসেন সজীব, মহিউদ্দিন রুদ্রু, শফিক রায়হান শাওন, সুভাষ চন্দ্র দাস, নাজমুল হোসেন স্বপন, মো. দেলোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান রানা। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের সভাপতি পদে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সম্পাদক পদে ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নীল প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা হলেন-সহ-সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির মঞ্জু, সরকার তাহমিনা সন্ধ্যা, সহ-সম্পাদক পদে ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন, অ্যাডভোকেট মো. আবদুল করিম ও কোষাধ্যক্ষ পদে রেজাউল করিম।
এই প্যানেলের কার্যনির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট আশিকুজ্জামান নজরুল, ফাতিমা আক্তার, ফজলে এলাহি অভি, ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ ও রাসেল আহমেদ প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৩-২০২৪ সেশনের কার্যকরী কমিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। কার্যকরী কমিটির সভাপতি পদে একটি, সহ-সভাপতি পদে দুটি, সম্পাদক পদে একটি, কোষাধ্যক্ষ পদে একটি, সহ-সম্পাদক পদে দুটি এবং কার্যকরী কমিটির সদস্য পদে সাতটি পদ-সহ সর্বমোট ১৪টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে ১৪ পদের বিপরীতে ২৯ জন প্রার্থী ছিলেন। মোট ভোটার ছিলেন আট হাজার ৬০২ জন। এদিকে বুধবার সকাল ১০টায় প্রথম দিনের ভোটগ্রহণ শুরু হলেও বিএনপিপন্থি নীল প্যানেলের প্রার্থী ও সমর্থকদের বাধার মুখে কিছুক্ষণের মধ্যে ভোট বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় আওয়ামীপন্থি সাদা প্যানেলের প্রার্থী-সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপিপন্থিদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের বেপরোয়া হামলার শিকার হন সাংবাদিকরা। এতে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও আইনজীবী আহত হন। পরে তাদের অনেককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সাংবাদিকদের ওপর পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং এর প্রতিকার চেয়ে ওইদিনই প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর সঙ্গে দেখা করেন ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) নেতারা।
