স্টাফ রিপোর্টার
নগরীর উপকন্ঠ কাশিয়াডাঙ্গা থানাধীন আদাবুড়ি গোয়ালপাড়া এলাকায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূ‚ শারীরিক নির্যাতনে গুরুতর আহত হয়েছে। ওই গৃহবধূ‚ আদাবুড়ি গোয়ালপাড়া এলাকার মোঃ হান্নান আলীর (৫০) ছেলে মোঃ রিপন আলীর(২৮)(স্ত্রী মোছাঃ সাদিয়া (২০)। ঐ গৃহবধ‚ দুর্গাপুর রাতুগ্রাম মোহাম্মদ আলীর (৪৫) মেয়ে। মেয়ের মা মোসা: সাহানাজ বেগম (৩৮) বলেন, প্রায় তিন বছর আগে কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার হান্নান আলীর ছেলে রিপনের সাথে আমার মেয়ে সাদিয়ার বিবাহ দিই।
বিয়ের সময় জামাইকে অ্যাপাচি আরটিআর মোটরসাইকেল দিয়েছি ২৮ হাজার টাকা রেজিস্ট্রেশন খরচ সহ। বিয়ের অনুষ্ঠানের সব ধরনের উপহার সহ নগদ এক লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়। মেয়েকে ২ ভরির স্বর্ণালংকার দিয়ে সাজিয়ে জামাইয়ের বাড়িতে পাঠায়। এবং ঘর সাজানোর যাবতীয় আসবাবপত্র দেওয়া হয়। এত কিছু দেওয়ার পরেও আমার মেয়ের সংসার সুখের হয়নি। একটি ১৩ মাসের ছেলে সন্তান রয়েছে আমার মেয়ে সাদিয়ার। তার পরেও আমার পাষণ্ড জামাইয়ের মন গলেনি।
বিয়ের ৩ মাস যেতে না যেতেই প্রায়ই যৌতুকের দাবিতে মারপিট করতো জামাই, জামাইয়ের মা ও ডিভোর্সি বোন। মেয়েটার সংসারের কথা চিন্তা করে আমরা মাঝেমধ্যেই সাধ্যমত টাকা দিতাম। কিন্তু গত এক সপ্তাহ থেকে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবিতে পাশবিক নির্যাতন চালাতে থাকে আমার মেয়ে সাদিয়াকে। এমন খবর পেয়ে গত বুধবার (২২ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আমরা সাদিয়ার শ্বশুরবাড়িতে সাদিয়াকে দেখতে যাই। গিয়ে দেখি আমার মেয়ে সাদিয়া শারীরিক নির্যাতনের কারণে অসুস্থ হয়ে বিছানায় শুয়ে আছে। আমাদেরকে যেতে দেখেই জামাইয়ের মা-বোন ও ছোট ভাই ঘর থেকে বেরিয়ে আসে।
তারা প্রশ্ন করেন, আমাদেরকে না জানিয়ে কিসের জন্য এসেছেন? এ সময় গৃহবধুর মা বলেন আমার মেয়ে অসুস্থ, আমাকে ফোন করেছিল, তাই দেখতে এসেছি। এ কথা শুনে শাশুড়ি গৃহবধূ‚কে ঘরের বিছানা থেকে হাত ধরে টেনে হিচড়ে বাইরে নিয়ে আসে। বলে আপনার মেয়ে কিসের অসুস্থ্য, বলেই গৃহবধূর মা ও গৃহবধ‚কে মারপিট শুরু করে শাশুড়ি ও ননদ। এ অবস্থা দেখে অসুস্থ্য গৃহবধূ‚ সাদিয়া জ্ঞান হারিয়ে ফেলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এই মারপিটের একটি ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে।
এ অবস্থা দেখে গৃহবধূ‚ সাদিয়ার পরিবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে চাইলে, গৃহবধুর শাশুড়ি ও ননদ বাড়ির দরজা লাগিয়ে দেয়। বলে ওর কিছু হয়নি, আমাদের সামনে মারা যাক, মেডিকেলে নিতে দেব না। এ সময় কাশিয়াডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমানকে মুঠোফোনে ফোন দেয়া হলে তিনি বলেন, গৃহবধূর পরিবারকে থানায় এসে দরখাস্ত দিতে বলেন।
বাধ্য হয়ে জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল করলে, কিছুক্ষণের মধ্যে কেশবপুর ফাঁড়ির এটিএসআই মতিউর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এবং অসুস্থ গৃহবধূকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক গৃহবধ‚ সাদিয়াকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)তে ৪১ ওয়ার্ডে ভর্তি করান। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চিকিৎসা গ্রহণ করেন গৃহবধূ‚।
এবং সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক গৃহবধ‚কে এক মাসের বেড রেস্টে থাকতে বলেন। এরপর গৃহবধ‚ সাদিয়াকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, প্রায় প্রতিদিনই যৌতুকের দাবিতে আমাকে মারপিট করে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ। আমি কয়েক মাস আগে একবার গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলাম, এসব পাশবিক নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য। প্রায় ৩ বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়েছে। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই আমার উপর শুরু হয় মানুষিক ও শারীরিক নির্যাতন।
আমার একটি ১৩ মাস বয়সের পুত্র সন্তান রয়েছে, আমার ছেলেকে আমার বুকে ফিরিয়ে দেন আপনারা বলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে গৃহবধ‚। এ সময় গৃহবধুর মা মোছাঃ সাহানাজ বেগম বলেন, আমার মেয়ের সাদিয়াকে প্রায় প্রতিদিন শারীরিক নির্যাতন করে জামাইয়ের পরিবার। এত কিছু দেওয়ার পরেও তাদের মন ভরেনি।
তারা অত্যন্ত লোভী এবং অন্যের সম্পত্তির মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখে সব সময়। তারা বিভিন্ন অজুহাতে আমার মেয়েকে মারধর করতেই থাকে। বলে তোর বাপের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আয়, না হলে নির্যাতন বন্ধ হবে না। আমার মেয়েকে ঠিকমত খেতেও দেয় না,বাড়ির কাজের মেয়ের মত কাজ করিয়ে নেয়। তিনি আরো বলেন, আমি আইনের আশ্রয় নেব আইনের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার চাই বলে জানান তিনি।
