আলো ডেস্ক: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় চুরির অপবাদ দিয়ে ১৫ বছরের এক কিশোরের হাঁটুর নিচে বাঁশ বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে সে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। নির্যাতনের ঘটনায় গতকল মঙ্গলবার দুপুরে ওই কিশোরের মামা আনিছার রহমান নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জানা গেছে, রোববার দুপুরে রাস্তায় হাঁটার সময় পায়ের সঙ্গে টিউবওয়েলের সকেটের আঘাত লাগে। সে সকেটটি নিয়ে চলে যাওয়ার সময় তাকে চোর মনে করে মারধর শুরু করে এলাকার লোকজন। তাকে একটি মাছের ঘেরে নিয়ে রশিতে হাত বাঁধা হয়। প্লাস দিয়ে চামড়া টেনে নির্যাতন করা হয়। পরে হাঁটুর নিচে বাঁশ বেঁধে নির্যাতন করা হয়।
একপর্যায়ে ছেলেটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিশোর জানায়, আমাকে রশি দিয়ে বেঁধে রড দিয়ে মেরেছে। প্লাস দিয়ে চামড়া টেনেছে। আবার বাঁশ পায়ের নিচে বেঁধে ডলা দিয়েছে। কান ধরে কয়েক বার উঠবস করিয়েছে। এমনকি আমাকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমি তাদের চিনি না, তবে দেখলে চিনতে পারবো। কিশোরের মামা আনিছার রহমান বলেন, আমার ভাগিনা সকেটটি রাস্তায় কুড়ে পেয়েছে।
কিন্তু তাকে চোর সন্দেহে বাঁশ ডলাসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করেছে ওই এলাকার ওহাব, তাপস, রানা। এমনকি ভোটমারি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আহাদুল ইসলামের সামনেও নির্যাতন করা হয়। আমি থানায় অভিযোগ করেছি তাদের উপযুক্ত শাস্তি চাই। এ বিষয় কালীগঞ্জ থানায় ওসি এটিএম গোলাম রসুল বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় অভিযুক্তরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
