আলো ডেস্ক: রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। গতকাল বুধবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার খারকুট এলাকায় ওই রেলপথ পরিদর্শন কালে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডুয়েলগেজ রেলপথ না থাকায় এখনই আগরতলা থেকে কলকাতায় সরাসরি ট্রেন চলাচল করছে না।
তবে আখাউড়া থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মিত হলে সরাসরি আগরতলা থেকে কলকাতা পর্যন্ত ট্রেন চালু করা সম্ভব হবে। এই রেলপথটি চালু হলে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে জানান রেলমন্ত্রী। এদিকে, পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের যাত্রীর চাপ কমাতে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে আরও কমপক্ষে চারটি ট্রেন দেওয়া হবে বলে জানান রেলমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন- আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ প্রকল্পের পরিচালক আবু জাফর মিয়া, টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কান্ট্রি ডিরেক্টর শরৎ শর্মা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রুহুল আমিনসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে তিনি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর হোসেন, রেলওয়ের ব্যবস্থাপক মো. আবিদুর রহমান, বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ইতি ধর, রেলওয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আরএনবি কমান্ড্যান্ট রেজওয়ানুর রহমান, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার রতন কুমার চৌধুরী, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জাফর আলম প্রমুখ।
এর আগে রেলমন্ত্রী গত মঙ্গলবার সকালে দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের নির্মাণাধীন কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনে পরিদর্শন করেন। দুপুরে তিনি দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হতে মায়ানমারের নিকটে ঘুনদুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পের Lot-2 এর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন এবং রামু সাইট অফিসে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মায়ানমারের ঘুনদুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পের Lot-1 এর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন এবং হারবাং সাইট অফিসে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভা করেন রেলমন্ত্রী।
এদিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে ফেনীতে যাত্রাবিরতি করেন রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম সুজন। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা বিজয় এক্সপ্রেসে তিনি ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর আমন্ত্রণে এ যাত্রাবিরতি করেন। এ সময় নিজাম উদ্দিন হাজারী রেলমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেনীতে জনসংখ্যার তুলনায় আন্তঃনগর ট্রেনে আসন বাড়ানোর অনুরোধ জানান।
এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে আবু বকর সড়ক ও হাসপাতাল সড়কের মাথায় রেলগেট স্থাপন এবং ফেনী গুদাম কোয়ার্টার রেল গেটের নিচে কালভার্টের পুনর্নির্মাণের অনুরোধ জানিয়েছেন। মন্ত্রী তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্টদের এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, ফেনী সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল, ফেনী রেল স্টেশন মাস্টার মুহাম্মদ হারুন, ফেনী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করিম উল্লাহ বিকম। বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও মন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
