আলো ডেস্কঃ সরকার ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির ঘোষণা দেওয়ার একদিনের মধ্যে কমতে শুরু করেছে পণ্যটির দাম। রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার শ্যামবাজারে মাত্র একদিনের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি কমেছে ২৫ টাকা পর্যন্ত। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সোমবার বাজারটিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। যা একদিন আগে গত রোববারও ছিল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। তবে খুচরা বাজারে এখনো পেঁয়াজের দাম কমার প্রভাব পড়েনি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুতই খুচরায়ও দাম কমে আসবে। শ্যামবাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পেঁয়াজ আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খবরে বাজারে দাম কমে এসেছে। আজ (সোমবার) বিভিন্ন স্থলবন্দরে পেঁয়াজের আইপিও দেওয়া হয়েছে। কাল-পরশুর মধ্যে এসব পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে এসে পৌঁছাবে। মূলত রমজানের ঈদের আগে থেকে বাড়তে শুরু করে পেঁয়াজের দাম।
ঈদের পর এ দাম ছুটতে থাকে লাগামহীন গতিতে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপে মুখে ভোক্তাদের মাথায় ওঠে বোঝার ওপর শাকের আঁটি। এরইমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে আমদানির দ্বার খুলে দেওয়া হবে। শ্যামবাজারের বিক্রমপুর হাউসের খোকন ইসলাম বলেন, এখন যাদের কাছে পেঁয়াজ মজুত আছে, আমদানির খবরে তারা পেঁয়াজ বাজারে ছেড়েছেন। একদিনে পেঁয়াজের দাম ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় নেমেছে। ভারতের পেঁয়াজ এলে দাম আরও কমবে।
এদিকে শ্যামবাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শুধু পাইকারি বাজার নয়, আমদানির খবরে দেশের গ্রামাঞ্চলের মোকামগুলোতেও পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। মোকামে মণপ্রতি দাম কমেছে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা। গত রোববার পাবনা ও ফরিদপুরে পেঁয়াজের মোকামে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে দুই হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার ৮০০ টাকায়। সোমবার তা দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৩০০ টাকায় নেমে এসেছে। পেঁয়াজ উৎপাদন করে দেশের কৃষক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য কৃষকের স্বার্থরক্ষায় গত ১৫ মার্চ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি বন্ধ রাখে সরকার।
এদিকে আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রথম দিনই দুই লাখ ৮০ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। সোমবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সোমবার থেকে সরকার পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেবে বলে গত রোববার কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছিল। কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার সকাল থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি বা আইপি আবেদন অনুমোদন করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
প্রথম দিনেই এখন পর্যন্ত ২১০টি আইপি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে, এতে পেঁয়াজের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৮০ হাজার ৮০০ টন। পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে সম্প্রতি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠেছে। নিজেরা সিন্ডিকেট করে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন ইচ্ছামতো।
ঈদুল আজহার একমাস আগেই বাজারে পেঁয়াজের দাম ওঠে আকাশচুম্বী। গত রোববারও রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল প্রায় ১০০ টাকা কেজি দরে। মাত্র দেড়মাস আগে রমজানে এক কেজি পেঁয়াজ ৩৫ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা বেড়ে প্রায় তিনগুণ হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে ৩৫ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে।
এ বছর উৎপাদন হয়েছে ৩৪ লাখ টন। পেঁয়াজের সংগ্রহ থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে বিভিন্ন ধাপে অপচয় ২৫-৩০ শতাংশ বাদে গত বছর নিট উৎপাদন হয়েছে ২৪ দশমিক ৫৩ লাখ টন। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ২৮-৩০ লাখ টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয় ৬ লাখ টন।
