আলো ডেস্ক: সিলেটের দক্ষিণ সুরমার নাজিরবাজারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ নির্মাণশ্রমিকের প্রাণহানির কারণ অনুসন্ধান ও সুপারিশ প্রণয়নের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল শুক্রবার সিলেট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আহসানুল আলম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরুল হাসানকে প্রধান করা হয়েছে। এ ছাড়া কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সহকারী পরিচালককে (ইঞ্জিনিয়ারিং)। কমিটির অন্য চার সদস্য হলেন- সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার, জেলার পুলিশ সুপার, সিলেট সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের প্রতিনিধি।
প্রত্যেক নিহতের পরিবার পেলো দুই লাখ টাকা: নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে দুই লাখ টাকা করে প্রদান করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে দিয়েছে মন্ত্রণালয়। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টায় নগরীর ওসমানী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের দেখে নিহত ১৫ জনের পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে ও আহত ১৩ জনের পরিবারে মাঝে ৫০ হাজার টাকা করে বিতরণ করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
এ সময় চেক বিতরণ করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. মুহিদুর রহমান। এ সময় সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মোবারক হোসেন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ) ডা. মাহবুবুল আলম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরির্দশন অদিপ্তরের শ্রম পরির্দশক মাহবুবুল আলম, মো. কাউছার আলী মির, ওসমানী মেডিকেলের ওয়ার্ড মাস্টার সোহেল আহমদ ও জীবন দাস উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট নগরের আম্বরখানা বড়বাজার থেকে পিকআপে করে প্রায় ৩০ জন নির্মাণশ্রমিক (নারীসহ) একটি নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদ ঢালাই কাজে যোগ দিতে জেলার ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুরে যাচ্ছিলেন। বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দক্ষিণ সুরমার নাজিরবাজার এলাকার কুতুবপুর এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী মালবাহী ট্রাকের সঙ্গে শ্রমিক বহনকারী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ১১ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়।
