আলো ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ চার বাংলাদেশির মধ্যে যশোরের মনির উজ্জামান (৪২) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় সারডাং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মনির। গত বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের বান্ডারবারু বাঙ্গির তামান ইন্ডাস্ট্রি সোলেমানের জুমু এসডিএন বিএইচডি নামের একটি ছাপাখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
ঘটনাস্থলেই ঝিনাইদহের লিটন (৩৪) ও পাবনার মোরাদ আলী মোল্লা (৩৮) মারা যান এবং দগ্ধ চারজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সারডাং হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার সকালে মারা যান মনির। বাকি তিনজন একই জেলার রাজা (২৯), মো. সাইফুল ইসলাম (৪২), বাবলু রহমান (৪৪) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দগ্ধদের চিকিৎসার জন্য পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে হাইকমিশন থেকে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার ভোরে সেলাঙ্গর রাজ্যের বান্ডারবারু বাঙ্গির তামান ইন্ডাস্ট্রি সোলেমানের একটি ছাপাখানায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় ছয় বাংলাদেশি ছাপাখানায় আটকা পড়েন। পরে তাদের মধ্যে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। জেবিপিএম অ্যাসিস্ট্যান্ট অপারেশন ডিরেক্টর এহসান মোহাম্মাদ জেইন আরও বলেন, ছাপাখানাটির আকার ৬০/৮০ বর্গফুট। ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের চেষ্টায় ভোর ৪টা ৪৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধোঁয়ার কারণেই ঘটনাস্থলে ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।
নারীর লাশ: এদিকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি এক নারী পিএইচডি গবেষকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার সেরি কেমবাঙ্গানের সারডাং পেরদানায় তার বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার হয়। সারডাং জেলা পুলিশের প্রধান সহকারী কমিশনার এ এ আনবালাগান গণমাধ্যমকে জানান,
পুলিশ গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৬ মিনিটে একজন ব্যক্তির কাছ থেকে ওই নারীর বিষয়ে একটি ফোন পান। তার স্বামী ৩৪ বছর বয়সী বাংলাদেশির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু ব্যর্থ হন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঘটনার আগে ভিকটিম ও তার বন্ধুরা একটি ডিনার পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন।
পার্টি চলাকালীন ওই নারীকে কিছুটা বিষন্ন দেখাচ্ছিল। আনবালাগান আরও বলেন, ওই নারী তার এক বন্ধুকে জানিয়েছিলেন, তিনি নিজ শহরে ফিরে যেতে আগ্রহী নন। তার মা বেঁচে নেই। বাংলাদেশে তার বাবা ও স্বামী রয়েছেন। ব্যক্তিগত কারণে দেশে ফিরে যেতে অসন্তুষ্ট ছিলেন। তবে সারডাং হাসপাতালের ময়নাতদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। মামলাটি আকস্মিক মৃত্যু (এসডিআর) হিসাবে রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আনবালাগান। তদন্তের স্বার্থে ওই নারীর নাম পরিচয় প্রকাশ করেনি দেশটির পুলিশ।
