আলো ডেস্ক: মাদারীপুর সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নের একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী কিশোরীকে (১৪) তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার দুপুরে একই এলাকার শওকত তস্তার (৩০) নামে এক যুবক ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ।
ধর্ষণে শিকার কিশোরীকে অসুস্থ অবস্থায় রাতে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত শওকত তস্তার মাদারীপুর সদর উপজেলার ছিলারচর এলাকার জলিল তস্তারের ছেলে। তিনি ঢাকার একটি কারখানায় কাজ করেন। হাসপাতাল, পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নের একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী ভ্যানচালকের মেয়ে ওই কিশোরী। গত শুক্রবার দুপুরে চার বছরের চাচাতো বোনকে সঙ্গে নিয়ে পাশের বাজার থেকে বাড়িতে ফিরছিল সে।
এ সময় ছিলারচর এলাকার শওকত ওই কিশোরীর পথ আটকান। পরে তাকে জোর করে পাশের একটি বাগানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে মুখ চেপে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে ওই কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে শওকত পালিয়ে যান। পরে কিশোরী বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে জানায়। প্রথমে লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি নিয়ে তারা চুপ থাকেন। পরে রাতে কিশোরী আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগীর কিশোরীর অভিযোগ, শওকত তস্তার জোর করে আমাকে তুলে নিয়ে যায়।
এরপর হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে। পরে আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে সে পালিয়ে যায়। আমি ওর ফাঁসি চাই। কিশোরীর দাদি বলেন, আমার নাতনীর যে সর্বনাশ করেছে তার উপযুক্ত বিচার চাই। শওকতের বিচার না হলে এমন অপরাধ চলতেই থাকবে। আমার নাতনির সঙ্গে যা ঘটলো তা যেন আর কোনো মেয়ের সঙ্গে না ঘটে। মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মুনীর আহম্মদ খান বলেন, ধর্ষণের শিকার এক কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি আছে।
নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে। মেয়েটির শারীরিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। গাইনি চিকিৎসক তার চিকিৎসা করছেন। মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় গতকাল শনিবার বিকেলে মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত শওকতকে ধরতে অভিযান শুরু করেছে। এ ঘটনায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
