আলো ডেস্ক: ২০১৫ সালে সংশোধিত মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ভিত্তিতে প্রণীত মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ এর তফসিলসহ জরুরি সংশোধন চেয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী, যে ২৭ ধরনের মানি লন্ডারিং সম্পৃক্ত অপরাধের তদন্ত ও অনুসন্ধানের ক্ষমতা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর কাছে ন্যস্ত ছিল, সেগুলো পুনরায় দুদকের এখতিয়ারভুক্ত করার দাবি জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।
গতকাল সোমবার এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, টিআইবির গবেষণা-নির্ভর ধারাবাহিক অধিপরামর্শমূলক কার্যক্রমের বহুবিধ সাফল্যের অন্যতম দৃষ্টান্ত হিসেবে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। যদিও এর কার্যকারিতার ঘাটতি নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ ক্রমাগত বেড়েই চলছে।
দুদক প্রতিষ্ঠার পর থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করছে টিআইবি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে আমরা দেখছি, যে সুনির্দিষ্ট অভীষ্ট নিয়ে দুদক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, একাধিক আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে দুদকের ক্ষমতা হ্রাস করে তা অর্জনের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করা হয়েছে।
এ প্রক্রিয়ার একটি অন্যতম উদাহরণ হলো, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী দুদককে ২৭ ধরনের সম্পৃক্ত অপরাধ তদন্ত ও অনুসন্ধানের ক্ষমতা দেওয়া হলেও, ২০১৫ সালে তা সংশোধন করে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর তফসিলে শুধু ‘ঘুষ ও দুর্নীতি’ ব্যতীত অন্য ২৬টি অপরাধ-সংশ্লিষ্ট মানি লন্ডারিং অনুসন্ধান ও তদন্তের দায়িত্ব দুদকের কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ড. জামান বলেন, নির্ভরযোগ্য সূত্রে আমরা জেনেছি যে, দুদকের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ-সংক্রান্ত আইনি সংশোধনের একটি উদ্যোগ চলমান আছে, যা ইতিবাচক। অবিলম্বে পুনরায় আইনটির বিধিমালা ও তফসিলসহ সংশোধন করে উল্লিখিত অপরাধসংশ্লিষ্ট মানি লন্ডারিং-এর অপরাধকেও জরুরি ভিত্তিতে দুদকের তফসিলভুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে টিআইবি।
