আলো ডেস্ক: জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা থেকে রাজাকারদের কবরসহ সব কবর এবং অবৈধ স্থাপনা অপসারণের দাবি জানিয়েছে ‘এফ এফ কমান্ডার্স ফোরাম ১৯৭১’। এ ছাড়া স্থপতি লুই আই কানের মূল নকশা বাস্তবায়ন করে সংসদ ভবনের অবয়বকে অক্ষুণ্ণ রাখার দাবিও জানান তারা। বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা খলিফা আশরাফ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নান্দনিক স্থাপনা হিসেবে সারা বিশ্বে প্রশংসিত।
সংসদ ভবনের নির্মাণ কাজ ১৯৬১ সালে শুরু হয়ে ১৯৮২ সালে শেষ হয়। বিপুল অর্থ ব্যয়ে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে সংসদ ভবন নির্মিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যে সংসদ ভবনের জন্য আমাদের এত গর্ব সেখানে স্বাধীনতা বিরোধীদের কবর দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় যাদের কবর রয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তারা হলেন- সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান, মুসলিম লীগের সাবেক সভাপতি সবুর খান, সাবেক সিনিয়র মন্ত্রী মশিউর রহমান যাদু মিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার, সাহিত্যিক আবদুল মনসুর আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী আতাউর রহমান খান।
খলিফা আশরাফ অভিযোগ করেন, সেখানে যাদের করব দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং পরবর্তীকালে জাতির জনকের নারকীয় হত্যাযজ্ঞে তাদের ভূমিকা কী ছিল তা সবাই জানে। শুধু তাই নয়, তাদের কুটচক্রান্তে চন্দ্রিমা উদ্যানের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে জিয়া উদ্যান, নকশা বহির্ভূতভাবে ক্রিসেন্ট লেকে ঝুলন্ত ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে, মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পশ্চিম পাশে পাঁচ বিঘা জমিতে জাতীয় কবরস্থান ঘোষণা করে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত সাত জনকে সমাধিস্থ করা হয়েছে, সংলগ্ন ১০ বিঘা জমিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র করা হয়েছে, নকশা লঙ্ঘন করে এলাকার মধ্যেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারদের বাসভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
স্থপতি লুই আই কানের বিশ্বনন্দিত নকশাস্থিত সংসদ ভবনের শৈল্পিক এবং নান্দনিক সৌন্দর্যকে যেমন নস্যাৎ করা হয়েছে, তেমনই সংসদ ভবন এলাকায় ঘোষিত রাজাকারদের কবর দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতাকামী মানুষের সঙ্গে উপহাস করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে অপবিত্র এবং কলঙ্কিত করা হয়েছে। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা এটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারি না। অবিলম্বে সংসদ ভবন এলাকা থেকে এসব কবর এবং স্থাপনা অপসারণ করতে হবে।
বিশেষ করে স্বাধীনতা বিরোধীদের কবর কোনভাবেই বরদাস্ত করা যাবে না। প্রয়োজন হলে দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ এবং মুক্তিযোদ্ধারা প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন- সংগঠনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আনোয়ার হোসেন, সদস্য সচিব আবু জাফর ফিরোজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ উল্লাহ খান, ঢাকা বিভাগের সংগঠক আনোয়ার হোসেন ভূইয়া, সিলেট বিভাগের সংগঠক হাজী এস এম নাজিম উদ্দিন, রংপুর বিভাগের সংগঠক আবদুল গাফফার প্রমুখ।
