স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বাজুখলসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় করোনাকালীন সময়ে খুললেও মাঠে বসছে বিশাল সবজির হাট। এতে দূর-দূরান্তে থেকে আগত ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের আনাগোনায় করোনা আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছে বিদ্যালয়ের ৪২৮জন কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা। এ বিদ্যালয়টিতে বছরের পর বছর অবৈধভাবে হাট বসিয়েছে অর্থ আদায় করে আসছে প্রভাবশালীরা।
প্রশাসন একাধিক বার স্কুল গেটে তালা ঝুলিয়েও মাঠ থেকে হাট উঠানোর চেষ্টা করলেও প্রভাবশালীদের দাপটে বার বার ভেস্তে যায়। পড়াশোনা বিঘ্ন করে বিদ্যালয়ে মাঠে সপ্তাহে দুইদিন হাট বসানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রাও।
স্থানীয়রা জানান, করোনা মহামারিতে দেড়বছর পর খুলেছে বাজুখলসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এমনিতে করোনা আতঙ্কে অনেক অভিভাবক তার সন্তানকে বিদ্যালয়ে আসতে দিতে চায় না। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৪২৮জন কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর প্রভাবশালীরা বিদ্যালয় মাঠে হাট বসিয়ে অর্থ আদায় করেন।
প্রতি সপ্তাহে সোমবার ও শুক্রবার বিদ্যালয় মাঠে বসে বিশাল হাট। করোনা আতঙ্ক মাথায় নিয়েই চলছে নিয়মিত ক্লাশ। এরপরও বিদ্যালয় মাঠে হাট বসানোর কারণে বাহিরের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের আনাগোনা শিশু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ভাবিয়ে তুলেছে।
গত সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মেইন ফটকে ট্রাক থামিয়ে সবজি তোলা হচ্ছে। প্রাচীর দিয়ে ঘিরে বিদ্যালয় মাঠে বসেছে বিশাল সবজির হাট। বিদ্যালয়ের ভিতরে ক্লাশ ভবনের সামনেই ট্রাকে লোড করা হচ্ছে মালামাল। করোনা সময়েও বাহির আগত ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের আনাগোনা ও দরকষাকষি চেঁচামেচির মধ্যেই চলছে বিদ্যালয়ের ক্লাস। এতে অনেক শিশুকে ক্লাশে অমনযোগী দেখা গেছে। আবার অনেক শিক্ষার্থী স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছেন। হাট বসানোর কারণে স্কুলের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের ক্লাশ ও চলাফেরায় ব্যাঘাতও ঘটছে। এ কারণে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
অভিভাবকরা জানান, করোনা সংক্রমণে এমনিতেই শিশুদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি। তারপর আবার বিদ্যালয় মাঠে বিশাল সবজির হাট বসে। সেখানে বিভিন্ন জেলা আগত ব্যবসায়ীরা আসেন। এতে শিশুদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। তাছাড়া একাধিকবার বিদ্যালয়ে মাঠ হাট বন্ধের উদ্দ্যোগ নিলেও সফল হয় না।
বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষিকা মরিয়ম বেগম বলেন, আমি নিরুপায়। এর আগে বিদ্যালয়ের মেইন ফটকে তালা ঝুলিয়ে হাট বন্ধ করা যায়নি। রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের দাপটে আবার বিদ্যালয় মাঠে হাট চালু হয়েছে। তিনি বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যালয়ে বারান্দা ঘেষে চলে কেনাবেচা। অনেক দূর-দূরান্তে থেকে আসে ব্যবসায়ীরা। এতে আমরা সবাই ৪২৮জন কোমলমতি শিশুদের নিয়ে করোনা ঝুঁকিতে রয়েছি। বিদ্যালয় মাঠ তাদের ছেড়ে দিতে আপত্তি থাকলেও আমাদের কিছুই করার নেই।
এ বিষয়ে কানপাড়া হাট কমিটির সভাপতি আমির আলীর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল ও এসএমএস দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান বলেন, করোনার সময়ে বিদ্যালয় মাঠে এমন পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। এলাকাবাসীর এ অভিযোগটা দীর্ঘ দিনের। তবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও নানান প্রতিক্রিয়ায় বিদ্যালয় মাঠ থেকে হাটটি সরানো যাচ্ছে না। দ্রুত বিদ্যালয় মাঠ থেকে হাটটি সরাতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, বিদ্যালয় মাঠে হাট বসানো যাবে না। এতে শিক্ষার্থীরা করোনা সংক্রমনের আশংকা রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও হাট কমিটির সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
