আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্ববাজারে টানা সাত সপ্তাহ ধরে কমছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম, যা পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম কোনো ঘটনা।
শনিবার (৯ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিলো ব্যারেলপ্রতি ৭৫ দশমিক ৮৪ ডলার। খবর রয়টার্সের।
চীনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা কমে যাওয়া ও আমেরিকার উত্তোলন বেড়ে যাওয়ায় বাজারে তার প্রভাব পড়েছে। যদিও মাঝে সৌদি আরব ও রাশিয়াসহ ওপেক প্লাস জোটের আগামী বছরও উত্তোলন কমানোর ঘোষণায় বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিলো।
একই সময়ে আমেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়েছে ২ শতাংশ বা ১ ডলার ৪২ সেন্ট। ব্যারেলপ্রতি দর উঠেছে ৭০ ডলার ৭৬ সেন্টে। এর আগে ব্রেন্টের দাম ২ ডলার পর্যন্ত বেড়েছিলো।
আইসিই ফিউচার্সে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম শুক্রবার ২ শতাংশ বা ১ ডলার ৫১ সেন্ট বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৫ ডলার ৫৬ সেন্টে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার উভয় বাজার আদর্শের দামই গত জুনের দ্বিতীয়ার্ধের পর থেকে সর্বনিম্নে। অনেক ব্যবসায়ীই মনে করতে শুরু করেছেন বাজারে সরবরাহ উদ্বৃত্ত। ফলে দাম নিম্নমুখী। রয়টার্স জানিয়েছে, সামনের মাসে সরবরাহ চুক্তিতে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই বাজার আদর্শের দরে মূল্যছাড় দেওয়া হয়েছে।
ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, দেশটিতে এখন দৈনিক ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন হচ্ছে।
ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম চলতি সপ্তাহে যথাক্রমে ৪ দশমিক ২ ও ৪ দশমিক ৫ শতাংশ পতনের পথে, পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে যা সবচেয়ে বড় দরপতনের নজির হতে যাচ্ছে।
এর আগে, সবশেষ অক্টোবরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক তিন আট ডলারে উঠেছিল। আর ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি বিক্রি হয়েছিল ৮৮ ডলারে।
এদিকে চীনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুত পূর্ণ থাকায় এবং অর্থনৈতিক মন্থরতার কারণে নভেম্বরে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় পণ্যটির আমদানি কমেছে ৯ শতাংশ। চীনা চাহিদা কমার কারণও পণ্যটির দাম কমাতে বাজারে বড় প্রভাবকের কাজ করেছে।
