সাজ্জাদুল তুহিন, নওগাঁ
নওগাঁর মান্দায় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী হানিফ উদ্দিন মন্ডল ও স্বতন্ত্র আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বাবুল চৌধুরীর লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে নৌকার সমর্থিত ৭ জন ও স্বতন্ত্র আনারস প্রতীকের সমর্থিত ৩ জন আহত হয়েছে।
শুক্রবার (১২ নভেম্বর) রাত ৮টার সময় উপজেলার গনেশপুর ইউপির সতিহাট এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহত ১০ জনের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৩ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আহতরা হলেন, গণেশপুর ইউপির জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা (৩৫), আলম (৩০), গ্রাম্য পুলিশ আমিনুর রহমান (৩২), হেলাল হোসেন (৩৫),মোস্তাক আহমেদ (২৭),মীর বাবু (৩২),পলাশ পাইক (৪৫), রানা (২৮),বাবু (৩০) ও শান্ত (২৭)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১২ নভেম্বর) প্রতীক বরাদ্দের পর স্বতন্ত্র আনারস প্রতীকের প্রার্থীর নেতাকর্মীরা প্রচার প্রচারণা করতে একটি মিছিল বের করেন।
এর কিছুক্ষণ পর নৌকার প্রার্থী সমর্থকরা নৌকার পক্ষে একটি মোটরসাইকেল মিছিল বের করে এলাকায় শোডাউন দেন। এই সময় সতিহাট বাস স্ট্যান্ড এলাকায় দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার জেরে উভয়পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী হানিফ উদ্দিন মন্ডল জানান, প্রতীক বরাদ্দের পর স্বতন্ত্রপ্রার্থীর লোকজনেরা সতিহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে আমাদের নেতাকর্মীর উপর হামলা চালায়। এতে আমাদের নেতাকর্মীসহ ৭ জন গুরুতর আহত হন। এদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা ও আলমের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনার পর বাবুল চৌধুরীর লোকজন দলীয় নৌকা প্রতীকের অফিসে এসে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ ব্যাপারে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বাবুল চৌধুরী জানান, নৌকা সমর্থিত প্রার্থীর নেতাকর্মীরা শোডাউন দিয়ে ফেরার সময় হাফেজ শান্ত হুজুরকে লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনার জের ধরে সতিহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আমাদের ৩ জন কর্মী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে রানা নামের এক যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্য দুজন নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আওয়ামী লীগের দলীয় অফিসে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এটা মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক। তারাই আগুন দিয়ে আমার নেতাকর্মীর নাম করছে।
এ ব্যাপারে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান জানান, উভয় পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এবং পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় পুলিশের নজরদারি রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবু বাক্কার সিদ্দিক জানান, উভয় পক্ষকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে যেন এরকম আর অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য প্রার্থীদের সতর্ক করা হয়েছে।
