আলো ডেস্কঃ
পোষ্য কোটা বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রশাসন ভবনে অনির্দিষ্টকালের জন্য তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় কর্মসূচি শুরু করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অন্য দুটি দাবি হলো– ফ্যাসিস্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিচারের আওতায় আনা এবং দুজন ফ্যাসিবাদী শিক্ষককে সহকারী প্রক্টর নিয়োগ দেওয়ার জন্য উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে উন্মুক্ত স্থানে কারণ দর্শানো।
এ সময় ‘পোষ্য কোটার বিরুদ্ধে, লড়াই হবে একসাথে’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘দালালদের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘মেধাবীদের কান্না, আর না আর না’, ‘আবু সাঈদ-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘আমরা কোনোভাবেই পোষ্য কোটা রাখতে দেবো না। যতক্ষণ এই কোটা সম্পূর্ণ বাতিল করা না হবে ততক্ষণ আমরা আামাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো। সুস্পষ্ট কোনও সিদ্ধান্ত না আসলে প্রশাসনিক ভবন অনির্দিষ্টকালের জন্যই বন্ধ থাকবে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাবি সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমরা চাই না কোনও ধরনের কোটা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকুক। আমরা চাই, এই কোটা সম্পূর্ণ বাতিল করা হোক। আমরা গতকাল প্রশাসনকে সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছে। যার ফলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আজকের মধ্যে এই কোটা বাতিল না করলে আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রশাসনিক ভবন বন্ধ করে রাখবো। আমাদের ভিসি স্যার বলেছেন যে, সুইপারদের জন্য মানবিক হয়ে এই ১% কোটা রাখা হয়েছে। তবে আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, এই রাজশাহীতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও সিটি করপোরেশনের মধ্যে অনেক সুইপার কাজ করেন; তাদের কথা কেন বিবেচনা করা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইপারদের জন্য যদি এই কোটা রাখা হয়, তাহলে বাইরের সুইপারদের জন্যও রাখতে হবে।’
আরেক শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম সজীব বলেন, ‘আমাদের জুলাইয়ের মূল ম্যান্ডেট ছিল কোটা বাতিল। পরবর্তী সময়ে সরকারের বল প্রয়োগে তাদেরই পতন হয়েছে। এর পরেই নতুন প্রশাসন ন্যায্যতার ভিত্তিতেই চেয়ারে বসেছে। কিন্তু, চার মাস পেরোতেই আমাদের আশাভঙ্গ হয়েছে, কোটার বিরুদ্ধে আবার স্লোগান দিতে হচ্ছে। এতে আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আমাদের দাবি, আজই কোটা বাতিল করে নতুন সিদ্ধান্তে আসতে হবে।’
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছেন।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলবো, যেকোনও একটা আন্দোলন গণতান্ত্রিক উপায়ে হওয়া উচিত। কারও গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করে কোনও আন্দোলন করা ঠিক না।’
প্রসঙ্গত, বুধবার শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আসন্ন ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সন্তানদের কোটা বাতিল করে কেবল সহায়ক ও সাধারণ কর্মচারীদের ছেলে-মেয়েদের জন্য ১ শতাংশ কোটা পুনর্নির্ধারণ করে রাবি প্রশাসন। তবে এ সিদ্ধান্ত গতকালই প্রত্যাখ্যান করে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
