আলো ডেস্ক:
সর্ব উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ে তাপমাত্রার ডিগ্রি বরাবরই নি¤œমুখী। অবশ্য মাঝে একদিনের জন্য তাপমাত্রা খানিকটা বেড়ে গিয়েছিল। এবার সেটি নেমে গিয়ে জেলায় আবারও বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ভোরে ঝলমলে রোদ নিয়ে পুবালি সূর্য উঁকি দিলেও সন্ধ্যা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত কনকনে শীতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন জেলার বাসিন্দারা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ভোর ৬টায় একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
গত সোমবার সকাল ৯টায় রেকর্ড হয়েছিল ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের তেজ বাড়লেও গত দিনের থেকে আজ শীতের মাত্রাটা একটু বেশি। স্থানীয়রা বলছেন, গত সোমবার বেশ গরম ছিল। তবে সন্ধ্যার পর থেকেই আবার জেঁকে বসে কনকনে হাড়কাঁপানো শীত। হাসপাতালের তথ্যমতে, শীতের কারণে বেড়েছে সর্দি, জ্বর, কাশি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগব্যাধি।
শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। সব থেকে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি ৬৬ জন শিশুর বেশিরভাগই শীতজনিত রোগে আক্রান্ত। গত ডিসেম্বরে হাসপাতালে প্রায় সাড়ে ৪০০ রোগী ডায়েরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছে। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশুবিশেষজ্ঞ ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, শীতের কারণে শিশুরা বেশি অসুস্থ হচ্ছে।
তাই শিশুদের শীতে সুরক্ষিত রাখতে বাবা-মাকে সতর্ক থাকতে হবে। জেলার প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ বলেন, আজকে আবার মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে এ জেলায়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ভোর ৬টায় একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। গত সোমবার সকাল ৯টায় রেকর্ড হয়েছিল ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এ তাপমাত্রায় আবারও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইতে শুরু করেছে এ অঞ্চলে। হিমালয়ের হিম বায়ু এ এলাকায় সরাসরি প্রবেশ করায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামীতে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এদিকে, হিমেল হওয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষ। পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিনযাপন করছেন তারা। বিভিন্ন এলাকায় খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে।
