আলো ডেস্ক: প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি বাজেটের চেয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, মোবাইল ফোন ও প্রযুক্তিপণ্যে কর-শুল্ক, ভ্যাট, সারচার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে, ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট জাতীয় সংসদে উপত্থাপন করা হয়। এ বাজেট হবে দেশের ৫৫ তম এবং বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর ও শুল্ক কাঠামো এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে সিগারেট, বিলাসবহুল গাড়ি ও আমদানি করা কাজুবাদামসহ কিছু পণ্যে করভার বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ ও বিলাসী পণ্যে করভার বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়বে।
যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে: প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের চারটি স্তরেই দাম বাড়ানো হয়েছে। নি¤œস্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের মূল্য ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরের ৯২ টাকা, উচ্চস্তরের ১৬০ টাকা এবং অতি-উচ্চ স্তরের ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকোর ওপরও উচ্চ হারে সম্পূরক শুল্ক ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আরোপ করা হচ্ছে। দেশীয় উৎপাদকদের সুরক্ষায় কাজুবাদাম আমদানির শুল্ক ১ ও ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে আমদানি করা কাজুবাদামের দাম বাড়তে পারে। বিলাসবহুল পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলচালিত গাড়ির করভারও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে ১২০০ থেকে ১৬০০ সিসি ক্ষমতার গাড়ির করহার বৃদ্ধি ও অগ্রিম আয়কর দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দেশীয় মদের উৎপাদন পর্যায়ে প্রতি লিটারে ৫০০ টাকা সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এছাড়া বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানির ক্ষেত্রে সার্বিক শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাব থাকতে পারে বাজেটে। বর্তমানে ইভির ক্ষেত্রে কর ভার প্রায় ৯৩ শতাংশ। নতুন প্রস্তাবে ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত দামের ইভিতে ৬৪ শতাংশ এবং ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত দামের ইভির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ শুল্ক-কর হারের প্রস্তাব আসতে পারে। বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধন ও ফিটনেস নবায়নের সময় অগ্রিম কর কেটে রাখা হয়। সেটিও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এছাড়া রড ও ইস্পাতজাত কিছু পণ্যে নির্দিষ্ট ভ্যাট বাড়ানো, আমদানি করা পাঙাশ ফিশ ফিলেটে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ, হেলিকপ্টারের ওপর বার্ষিক অগ্রিম আয়কর এবং জুয়ার আয়ের ওপর করহার ২০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও রয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়বে।
