পুঠিয়া সংবাদদাতা
রাজশাহী পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালদের কারণে অতিষ্ট রোগী এবং স্বজনরা। বেশ কিছুদিন তুলনামূলকভাবে দালাল কম থাকলেও হঠাৎ করে মাস দুয়েক থেকে দালাল উৎপাত আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
ক্লিনিক ও প্যাথলজির দালালদের কারণে রোগীদের ছোট কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাম গোপন রাখা শর্তে একজন কর্মচারী জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কিছু কিছু কক্ষে সার্বক্ষণিক দালালরা বসে থাকে এবং রোগীদের অল্প টাকায় ভালো পরীক্ষা নিরীক্ষার কথা বলে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা শেষে বেশি টাকা আদায় করে। এ সকল কাজের সাথে আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারীরা জড়িত। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে দালালের বিষয়ে কোন প্রকার বড় পদক্ষেপ না নেওয়ায় আজ পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দালালদের দখলে।
গত ১৫ অক্টোবর সাবিত্রী (৯০) নামের এক রোগী আড়ানী থেকে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বুকের ব্যথা নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য আসেন। দায়িত্বে থাকা চিকিৎস রোগীকে ( ইসিজি) করার জন্য পরামর্শ দিলে সেই সময় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধি বীথির কাছে জিম্মি হয়ে তিনি সঠিক চিকিৎসা না পেয়েই মৃত্যু বরণ করেন বলে জানান তার সাথে থাকা অন্য দালালেরা। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এরপরে গত ২৮ নভেম্বর পুঠিয়া রাজবাড়ি বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা নেবার সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দালালদের কারণে (ইসিজি) করা সম্ভব না হওয়ায় রোগীকে মৃত্যু ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে দালালদের পক্ষে দেওয়া নেতৃত্ব দেওয়া স্টোর কিপার এর গাফিলতিতেই এমন ঘটনা ঘটে। অভিযোগ থাকা সত্তে¡ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের সাথে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক মতবিরোধ সৃষ্টি হয়।
চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী ও তার স্বজনরা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ক্লিনিক প্যাথলজি দালালদের বড় সিন্ডিকেট চক্র রয়েছে। কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে এদের বিষয়ে কোন সময় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না এতে আমরাও অনেক উদ্বিগ্ন। আমরা অনেক সময় ডাক্তারের রুমে গিয়েও দেখি ডাক্তারের রুমে কোন একটা রোগীকে নিয়েই দালালরা ঢুকে আছে। অথচ ডাক্তাররা দালালদের কিছুই বলছে না। আবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষা নিরীক্ষার যে পরীক্ষাগার আছে সেখানে সর্বক্ষণই থাকে দালালদের উপস্থিতি। এছাড়াও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঠিক নিয়ম শৃঙ্খলা না থাকায় রোগী ও তাদের স্বজনদের অর্থসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সূচনা মনোহারা জানান, আমি প্রতিনিয়ত হাসপাতাল পরিদর্শন করি। কিন্তু আমি পরিদর্শনের কিছু আগ মুহূর্তেই ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধিরা আমার পরিদর্শনের খবর জানতে পেরে পালিয়ে যায়। যেহেতু আমি এদের চিনি না তাই তাদেরকে সনাক্ত করা সম্ভব হয় না। পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে এই সিন্ডিকেট থেকে রক্ষা করার জন্য সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করব।
