আলো ডেস্ক: ফরিদপুরের সালথায় প্রেমিকের ওপর অভিমান করে রানী আক্তার মীম (১৭) নামের এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রানী আক্তার ওই গ্রামের দিনমজুর আফছার মাতুব্বরের মেয়ে। তিনি সালথা সরকারি ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মোবাইলে প্রেমিকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয় রানীর। পরে রাতেই ঘরের ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।
তবে প্রেমিকের পরিচয় জানা যায়নি। রানীর বাবা আফছার মাতুব্বর জানান, রাতে আমি ও আমার স্ত্রী বাড়ির পাশে একটি মিলাদ মাহফিলে যাই। সেখানে থাকা অবস্থায় আমার মোবাইলে কল আসে। একটি ছেলে ফোন করে বলে আপনি তাড়াতাড়ি বাড়িতে যান। একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমি স্ত্রীকে নিয়ে দ্রুত বাড়িতে এসে দেখি ঘরের দরজা বন্ধ।
অনেক ডাকাডাকির পরেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে দেখি আমার মেয়ে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে। এরপর থেকে ওই ছেলের ফোন বন্ধ। তবে তার ছবি রয়েছে আমার মেয়ের মোবাইলে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নেওয়ার সময় মেয়ের ফোনও নিয়ে গেছে। আমাদের ধারণা ওই ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ের সম্পর্ক ছিল। তিনি আরও বলেন, ঘটনার আগে মোবাইলের মাধ্যমে ওই ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ের ঝগড়াঝাঁটি হয়। পরে অভিমান করে আমার একমাত্র মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আমি ওই ছেলের সন্ধান চাই। পাশাপাশি ওর বিচার চাই। রানীর মা নাজমা বেগম বলেন, আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে।
এক ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে। আরেক ছেলে ছোট। আর একমাত্র মেয়ে মীমকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল আমাদের। রানীর চাচা উকিল মাতুব্বর বলেন, ধারণা করা হচ্ছে রানীর সঙ্গে একটা ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তার সঙ্গে ওই ছেলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে রাগারাগি করে আত্মহত্যা করেছে মীম। এ বিষয়ে গট্টি ইউনিয়ন (ইউপি) পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলু বলেন, সম্ভবত মেয়েটা তার প্রেমিকের সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে। এ বিষয়ে সালথা থানার ওসি শেখ সাদিক বলেন, প্রেমঘটিত বিষয় নিয়েই মীম ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বলে শুনেছি। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
