আলো ডেস্ক: ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্করতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ ‘ভোলা সাইক্লোন’। উপকূলবাসীর কাছে সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় এই দিনটি। এ ঝড়ের কারণে প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। এ ছাড়াও কয়েক লাখ গবাদিপশু মারা যায় এবং সম্পদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) ভোলা ঘূর্ণিঝড়কে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই দিনটিকে স্মরণ করে উপকূলের সংকট, সমস্যা, সম্ভাবনা এবং উপকূলের মানুষের অধিকার ও ন্যায্যতার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ‘সেইভ ফিউচার বাংলাদেশ’।
গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ওই মানববন্ধনে উপকূল দিবস বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ও উপকূল সন্ধানী সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মন্টু বলেন, উপকূল আমার প্রাণ, আমি এক দশক ধরে উপকূল নিয়ে কাজ করছি। আমি মনে করি উপকূলের গুরুত্ব আরও বাড়াতে হবে। কারণ, উপকূলের গুরুত্ব না হলে উন্নয়ন হবে না, এতে বঞ্চিত হবে সেখানকার বাসিন্দারা।
তাদের অধিকার ও ন্যায্যতার জন্য এবং ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর উপকূলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ঙ্কারী ঝড় ‘ভোলা সাইক্লোন’ ঝড়ে নিহতদের স্মরণ এবং উপকূলের গুরুত্ব বাড়াতে ‘উপকূল দিবস’ রাষ্ট্রীয় ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি। ২০১৭ সাল থেকে উপকূল দিবস পালন করে আসছি, এই বছরেও উপকূলে এবং বিভিন্নস্থানে পালিত হচ্ছে।
জলবায়ু কর্মী ও ‘সেইভ ফিউচার বাংলাদেশ’ এর প্রধান সমন্বয়ক নয়ন সরকার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে চরম ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষার সঙ্গে গোটা দেশের সুরক্ষা জড়িত। উপকূলের সংকট উত্তরণ ও সম্পদ সুরক্ষা করতে না পারলে জাতীয় লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হবে। উপকূলের বৃহৎ অংশকে অনুন্নত রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। কাউকে পিছনে ফেলে নয়। সবাইকে নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৫ কোটি মানুষ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। উপকূলের বহু এলাকা অরক্ষিত থেকে যাচ্ছে যুগের পর যুগ। আর অবহেলা উপকূলের অধিকার ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন নতুন দুর্যোগ সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষেরা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এগুলো সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করে তুলতেও একটি দিবসের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। উপকূলের মানুষের অধিকার ও ন্যায্যতার দাবি তুলে ধরতে উপকূলের জন্য একটি বিশেষ দিন অপরিহার্য। যার নাম হবে ‘উপকূল দিবস’। আজকে আমরা উপকূল দিবস পালনের মধ্যে দিয়ে উপকূল দিবসকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চেয়ে সরকারের কাছে দাবি জানাই।
মানববন্ধন থেকে সরকারের কাছে আরও যেসব দাবি জানানো হয় সেগুলো হলো- ১২ নভেম্বরকে উপকূল দিবস ঘোষণা করতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চলকে দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করতে হবে। উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে। সুপেয় পানি সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
নদী ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। উপকূল জুড়ে টেকসই ব্লক বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের অধিকার ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব খাপখাওয়াতে ক্ষতিগ্রস্থদের সহযোগিতা করতে হবে। অভিযোজন প্রক্রিয়া বাড়াতে হবে। জলবায়ু শরনার্থীদের টেকসই পুর্নবাসন করতে হবে।
দেশের পাহাড়-টিলা, বনাঞ্চল, গাছপালা, বন্যপ্রাণী, নদী এবং সর্বোপরি পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা করতে হবে ও সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়াও প্লাস্টিক দূষণ রোধে এবং বায়ুদূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মানববন্ধনে উপকূল দিবস বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী রফিকুল ইসলাম মন্টু, সেইভ ফিউচার বাংলাদেশ’র প্রধান সমন্বয়ক নয়ন সরকার, মোফাজ্জল আহমেদ, শাওন আহমেদ, মাহাদী হাসান, জনি হোসাইন ও আতিউল ইসলাম প্রামাণিক বাবুসহ পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মীদের অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
