বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলা মামলার আসামি হয়েও অফিস করছেন কর্মচারী লীগের সভাপতি
স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) কর্মচারী লীগের সভাপতি মো: আশরাফুল ইসলাম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হয়েও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। নির্বিঘ্নে নিয়মিত অফিস করছেন। কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আশরাফুল আরডিএ’তে প্লামবার মিস্ত্রী পদে কর্মরত।
রাজশাহীতে গত জুলাইয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় আগস্টে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন কুমারপাড়াস্থ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আলিম। এতে ৭ নম্বর আসামি করা হয়েছে আশরাফুল ইসলামকে।
সূত্র জানায়, রাজশাহীতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে এরই মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু মামলার ৭ নং আসামি আশরাফুল ইসলাম এখনও গ্রেফতার হয়নি। হামলায় নেতৃত্ব দেয়া আসামিদের মধ্যে আশরাফুল সহ অন্য আসামিদের গ্রেফতার না হওয়া রহস্যজনক বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
রাজশাহী সিটির তৎকালীন মেয়র আ’লীগ নেতা খায়রুজ্জামান লিটন ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌরিদ আল মাসুদ রনির আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে তিনি আরডিএ’তে প্ল্যামবার মিস্ত্রী পদে চাকরি লাভ করেন। তবে আরডিএর এক সূত্র দাবি করছে, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্লাম্বিং পদে চাকরির যোগ্যতা হিসেবে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) বা কোন স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে প্লাম্বিং ট্রেডে পাশের সাটিফিকেট আবশ্যক। কিন্তু তিনি কোনদিন প্লাম্বিং বিষয়ে টিটিসি বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করেননি। তিনি রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে প্লাম্বিং পদে কি ভাবে চাকরি পেয়েছেন তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অভিযোগ রয়েছে, আ’লীগ সরকারের পতনের আগে আশরাফুল ইসলাম আরডিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করতেন। আ’লীগের প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। তার এসব কর্মকান্ডে আরডিএতে কর্মরতদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে।
এদিকে, আ’লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আশরাফুল ইসলামকে মহানগর যুবদলের বেশ কিছু নেতার সাথে দেখা যাচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, ছাত্র আন্দোলনের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। অথচ আ’লীগের সহযোগী ও আন্দোলনে নাশকতাকারীরা বিএনপি এবং যুবদলে অনুপ্রবেশ করছে।
মামলার বাদী আব্দুল আলিম জানান, নকশিবাজারের মেস মালিক কাইসান আহমেদ গ্রেফতার হলেও আশরাফুল ইসলাম এখনও গ্রেফতার হননি। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে আশরাফুল ইসলামকেও গ্রেফতার করা হবে।এ ব্যাপারে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) কর্মচারী লীগের সভাপতি মো: আশরাফুল ইসলাম বলেন, মামলার ব্যাপারে আমার জানা নেই। এছাড়া সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে অফিসে ডাকেন তিনি।
এব্যাপারে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) চেয়ারম্যান মো: তুহিনুর আলমকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বোয়ালিয়া থানার ওসি মুস্তাক আহম্মেদ জানান, আমি এ মাসেই থানায় যোগদান করেছি, এজাহারটি দেখে জানাতে পারবো। আসামি গ্রেফতারের ব্যাপারে তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য তথ্য পেলেই গ্রেফতার করা হবে।
